৯/২০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১১০ - দুই অভিভাবকের বিয়েতে প্রথম চুক্তি
দুই অভিভাবক (পৃথকভাবে) বিয়ে দিলে
দুই অভিভাবক বিয়ে দিলে কোন নিকাহ বহাল হবে?
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১১১০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১১১০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " أَيُّمَا امْرَأَةٍ زَوَّجَهَا وَلِيَّانِ فَهِيَ لِلأَوَّلِ مِنْهُمَا وَمَنْ بَاعَ بَيْعًا مِنْ رَجُلَيْنِ فَهُوَ لِلأَوَّلِ مِنْهُمَا» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ نَعْلَمُ بَيْنَهُمْ فِي ذَلِكَ اخْتِلاَفًا إِذَا زَوَّجَ أَحَدُ الْوَلِيَّيْنِ قَبْلَ الآخَرِ فَنِكَاحُ الأَوَّلِ جَائِزٌ وَنِكَاحُ الآخَرِ مَفْسُوخٌ وَإِذَا زَوَّجَا جَمِيعًا فَنِكَاحُهُمَا جَمِيعًا مَفْسُوخٌ . وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .
সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ (সম-পর্যায়ের) দুইজন অভিভাবক কোন মেয়েকে (ভিন্ন দুই ব্যক্তির নিকট) বিয়ে দিলে প্রথম জনের বিয়ে বহাল হবে। কোন ব্যক্তি (একই মাল) দু’জন খরিদ্দারের নিকট বিক্রয় করলে তা প্রথম খরিদ্দারই পাবে।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেন। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কোন মতদ্বৈততা আছে বলে আমাদের জানা নেই। এক অভিভাবক অপর অভিভাবকের আগে কনেকে বিয়ে দিলে প্রথম অভিভাবকের বিয়ে বহাল হবে এবং দ্বিতীয় অভিভাবকের দেয়া বিয়ে বাতিল বলে বিবেচিত হবে। আর যদি দুইজন অভিভাবক একই সময় (দুইজনের কাছে) বিয়ে দেয় তবে উভয়ের প্রদত্ত বিয়ে বাতিল বলে বিবেচিত হবে। সুফিয়ান সাওরী, আহ্মাদ ও ইসহাক এই মত দিয়েছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একই নারীকে দুই সমপর্যায়ের অভিভাবক দুই ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দিলে কোন বিয়ে কার্যকর হবে, তা বলা হয়েছে। যে অভিভাবক প্রথমে বিয়ে দিয়েছেন, তার সম্পন্ন করা নিকাহ বহাল থাকবে। পরে করা দ্বিতীয় নিকাহ কার্যকর হবে না। একই নিয়ম বোঝাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ক্রয়-বিক্রয়ের উদাহরণ দিয়েছেন: একজন বিক্রেতা একই জিনিস দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করলে প্রথম ক্রেতাই সেটির অধিকারী হবে। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, আগে সম্পন্ন হওয়া বৈধ চুক্তির অধিকার রক্ষা করা এবং একই বিষয়ে পরবর্তী বিরোধপূর্ণ চুক্তি না করা। বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সমন্বয়, তথ্য যাচাই ও দায়িত্বশীলতা জরুরি, যাতে একজন নারীর বিষয়ে দ্বৈত সিদ্ধান্ত ও বিরোধ তৈরি না হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুই অভিভাবকের আলাদা নিকাহ হলে প্রথম সম্পন্ন নিকাহ বহাল থাকবে।
- একই বিষয়ে পরস্পরবিরোধী দুই চুক্তি করা উচিত নয়।
- বিয়ের আগে অভিভাবকদের মধ্যে পরিষ্কার সমন্বয় দরকার।
- প্রথম বৈধ চুক্তির অধিকার রক্ষা করতে হবে।
