৯/৩৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৩০ - দুই বোনের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া
কোন লোক তার অধীনে দুই বোন স্ত্রী থাকাবস্থায় মুসলমান হলে
ইসলাম গ্রহণের পর দুই বোনের একজনকে স্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১১৩০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১১৩০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ أَيُّوبَ، يُحَدِّثُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي وَهْبٍ الْجَيْشَانِيِّ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ فَيْرُوزَ الدَّيْلَمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَسْلَمْتُ وَتَحْتِي أُخْتَانِ . قَالَ «اخْتَرْ أَيَّتَهُمَا شِئْتَ». هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَأَبُو وَهْبٍ الْجَيْشَانِيُّ اسْمُهُ الدَّيْلَمُ بْنُ هُوشَعَ .
ফাইরূয দাইলামী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি, আমার অধীনে দুই বোন একত্রে স্ত্রী হিসেবে আছে। তিনি বললেনঃ তাদের মধ্যে যাকে খুশি তুমি বেছে নাও।
এই হাদীসটি হাসান। আবূ ওয়াহ্ব আল-জাইশানীর নাম আদ-দাইলাম, পিতার নাম হাওশা।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একই বিষয়ের আরেকটি বর্ণনা এসেছে। একজন ব্যক্তি বলেন, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন, অথচ তার অধীনে দুই বোন একসঙ্গে স্ত্রী হিসেবে আছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে বলেন, তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে বেছে নিতে। বক্তব্যটি সংক্ষিপ্ত হলেও বৈবাহিক সীমাটি পরিষ্কার: দুই বোনকে একই সময়ে স্ত্রী হিসেবে রাখা যাবে না। এখানে ব্যক্তিকে অতীতের অবস্থার জন্য দীর্ঘ আলোচনা করা হয়নি; বরং বর্তমান অবস্থা ঠিক করার সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাদিসটি শেখায়, ইসলামের বিধান জানার পর পুরোনো রীতি বা আগের চুক্তিকে অজুহাত বানিয়ে নিষিদ্ধ সমন্বয় ধরে রাখা ঠিক নয়। একই সঙ্গে বর্ণনাটি আমাদের সতর্ক করে যে বিয়ের আগে নারী-পুরুষের পারিবারিক সম্পর্ক ঠিকভাবে জানা দরকার। হাদিসে যেহেতু কেবল একজনকে বেছে নেওয়ার কথা আছে, তাই এর বাইরে নতুন শর্ত বা ঘটনা যোগ না করে মূল নির্দেশেই থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুই বোনকে একসঙ্গে স্ত্রী রাখা ইসলামী সীমার বিরোধী।
- একজনকে বেছে নিয়ে বৈবাহিক অবস্থা সংশোধন করতে বলা হয়েছে।
- পুরোনো রীতি নববী নির্দেশের ওপর প্রাধান্য পায় না।
- বিয়ের আগে আত্মীয়তার সম্পর্ক যাচাই করা জরুরি।
