১১/১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৭৫ - হায়েয অবস্থায় তালাকের গণনা
তালাকের সুন্নত পদ্ধতি
হায়েয অবস্থায় তালাক: স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া ও তালাক গণনার বিষয়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১১৭৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১১৭৫
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنْ رَجُلٍ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَقَالَ هَلْ تَعْرِفُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فَإِنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَسَأَلَ عُمَرُ النَّبِيَّ ﷺ فَأَمَرَهُ أَنْ يُرَاجِعَهَا. قَالَ قُلْتُ فَيُعْتَدُّ بِتِلْكَ التَّطْلِيقَةِ قَالَ فَمَهْ أَرَأَيْتَ إِنْ عَجَزَ وَاسْتَحْمَقَ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু উমর (রাঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, এক লোক তার স্ত্রীকে হায়িয থাকাবস্থায় তালাক দিয়েছে। তিনি বললেন, তুমি কি আবদুল্লাহ ইবনু উমরকে চেন? সে তার স্ত্রীকে হায়িয থাকাবস্থায় তালাক দিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে উমর (রাঃ) (এর বিধান প্রসঙ্গে) প্রশ্ন করেন। তিনি তাকে নিজ স্ত্রীকে ফেরত নিতে হুকুম দিলেন। বর্ণনাকারী উমর (রাঃ) বলেন, আমি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে) প্রশ্ন করলাম, এ তালাকও কি গণনা করা হবে? তিনি বললেনঃ কেন হবে না! তুমি কি মনে কর, যদি কোন লোক অপারগ হয় বা আহম্মকি করে (তাতে কি তালাক কার্যকর হবে না)।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমর (রাঃ)-এর নিজের ঘটনার মাধ্যমে হায়েয অবস্থায় তালাকের বিষয় বলা হয়েছে। তিনি স্ত্রীকে ঋতুস্রাব চলাকালে তালাক দিয়েছিলেন। উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বিধান জানতে চাইলে তাঁকে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বর্ণনাকারী জানতে চান, ওই তালাকটি গণনা হবে কি না। ইবনু উমর (রাঃ) জবাব দেন, অবশ্যই গণনা হবে; অক্ষমতা বা ভুল আচরণ তালাককে অকার্যকর করে না—এমন অর্থ তাঁর কথায় প্রকাশ পায়। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো তালাক দেওয়ার সময় নির্ধারিত নিয়ম ভাঙা উচিত নয়, কিন্তু ভুলভাবে দেওয়া তালাককেও হালকা করে দেখা যাবে না। বিষয়টি পারিবারিক জীবনে খুব গুরুতর, তাই আবেগের মধ্যে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিয়ম জেনে চলা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েয অবস্থায় তালাক দেওয়া সঠিক নিয়ম নয়।
- এ অবস্থায় স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
- ইবনু উমর (রাঃ)-এর বক্তব্য অনুযায়ী ওই তালাক গণনা হয়েছিল।
