১১/২০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২০০ - যিহারের কাফফারার ধাপ ও ষাট মিসকীন
যিহারের কাফফারা
যিহারের কাফফারা: দাসমুক্তি, দুই মাস রোজা ও ষাট মিসকীন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১২০০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১২০০
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَنْبَأَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْخَزَّازُ، أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَنْبَأَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، أَنْبَأَنَا أَبُو سَلَمَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، أَنَّ سَلْمَانَ بْنَ صَخْرٍ الأَنْصَارِيَّ، أَحَدَ بَنِي بَيَاضَةَ جَعَلَ امْرَأَتَهُ عَلَيْهِ كَظَهْرِ أُمِّهِ حَتَّى يَمْضِيَ رَمَضَانُ فَلَمَّا مَضَى نِصْفٌ مِنْ رَمَضَانَ وَقَعَ عَلَيْهَا لَيْلاً فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَعْتِقْ رَقَبَةً» . قَالَ لاَ أَجِدُهَا . قَالَ «فَصُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ» . قَالَ لاَ أَسْتَطِيعُ . قَالَ " أَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا " . قَالَ لاَ أَجِدُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِفَرْوَةَ بْنِ عَمْرٍو «أَعْطِهِ ذَلِكَ الْعَرَقَ» . وَهُوَ مِكْتَلٌ يَأْخُذُ خَمْسَةَ عَشَرَ صَاعًا أَوْ سِتَّةَ عَشَرَ صَاعًا فَقَالَ " أَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . يُقَالُ سَلْمَانُ بْنُ صَخْرٍ وَيُقَالُ سَلَمَةُ بْنُ صَخْرٍ الْبَيَاضِيُّ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي كَفَّارَةِ الظِّهَارِ .
আবূ সালামা ও মুহাম্মদ ইবনু আবদুর রাহমান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
বায়াযা গোত্রের সালমান ইবনু সাখর আনসারী তার স্ত্রীকে রামাযান মাসের জন্য তার মায়ের পিঠের সাথে তুলনা করল (যিহার করল)। এই মাসের অর্ধেক গত হওয়ার পর এক রাতে সে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করল। তারপর সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বিষয়টি তাঁকে জানালো।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ একটি গোলাম আযাদ কর। সে বলল, এটা করার সামর্থ্য আমার নেই। তিনি বললেনঃ একাধারে দুই মাস রোযা রাখ। সে বলল, আমার সামর্থ্য নেই এটা করার। তিনি বললেনঃ ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াও। সে বলল, এটা করারও আমার সামর্থ্য নেই। তখন ফারওয়া ইবনু আমর (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাকে এই খেজুরের ঝুড়িটা দাও যাতে ষাটজন মিসকীনকে সে খাওয়াতে পারে। আরাক এমন বড় ঝুড়িকে বলা হয় যাহাতে ১৫ অথবা ১৬ সা' খেজুর ধরে।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীস অনুযায়ী যিহারের কাফ্ফারা নির্ধারণের ব্যাপারে আলিমগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সালামানকে সালামা আল-বায়াযীও বলা হয়।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালমান বা সালামা ইবন সাখর রা.-এর যিহারের ঘটনা এসেছে। তিনি রমজান মাসের জন্য স্ত্রীকে মায়ের পিঠের সঙ্গে তুলনা করেন, পরে মাসের মাঝামাঝি রাতে সহবাস করে ফেলেন। বিষয়টি জানালে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم প্রথমে একটি দাস মুক্ত করতে বলেন। তিনি অক্ষমতা জানালে একটানা দুই মাস রোজা রাখতে বলেন। তাতেও অক্ষম বললে ষাটজন মিসকীনকে খাওয়ানোর নির্দেশ দেন। তার সামর্থ্য না থাকায় নবী صلى الله عليه وسلم খেজুরভর্তি একটি বড় ঝুড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন, যাতে তিনি ষাটজনকে খাওয়াতে পারেন। হাদিসটি যিহারের কাফফারার ধারাবাহিক ধাপ, ব্যক্তির সামর্থ্যের বিবেচনা এবং দায়িত্ব পালনে সহায়তার একটি পরিষ্কার উদাহরণ তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যিহারের প্রথম কাফফারা হিসেবে একটি দাস মুক্ত করার নির্দেশ এসেছে।
- তা সম্ভব না হলে একটানা দুই মাস রোজা রাখতে বলা হয়েছে।
- রোজাতেও অক্ষম হলে ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াতে বলা হয়েছে।
- অক্ষম ব্যক্তিকে কাফফারা আদায়ে সহায়তা করার উদাহরণ হাদিসে রয়েছে।
