১১/২১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২০১ - শপথ ভঙ্গের কাফফারা ও ঈলার শিক্ষা
ঈলা প্রসঙ্গে
শপথ ভঙ্গের কাফফারা: ঈলা ও হালাল বিষয়ে ফিরে আসার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১২০১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১২০১
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ قَزَعَةَ الْبَصْرِيُّ، أَنْبَأَنَا مَسْلَمَةُ بْنُ عَلْقَمَةَ، أَنْبَأَنَا دَاوُدُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ آلَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِنْ نِسَائِهِ وَحَرَّمَ فَجَعَلَ الْحَرَامَ حَلاَلاً وَجَعَلَ فِي الْيَمِينِ كَفَّارَةً .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَأَبِي مُوسَى . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ مَسْلَمَةَ بْنِ عَلْقَمَةَ عَنْ دَاوُدَ رَوَاهُ عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ وَغَيْرُهُ عَنْ دَاوُدَ عَنِ الشَّعْبِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ . مُرْسَلاً . وَلَيْسَ فِيهِ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ مَسْلَمَةَ بْنِ عَلْقَمَةَ . وَالإِيلاَءُ هُوَ أَنْ يَحْلِفَ الرَّجُلُ أَنْ لاَ يَقْرُبَ امْرَأَتَهُ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ فَأَكْثَرَ .وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِيهِ إِذَا مَضَتْ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ إِذَا مَضَتْ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ يُوقَفُ فَإِمَّا أَنْ يَفِيءَ وَإِمَّا أَنْ يُطَلِّقَ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ إِذَا مَضَتْ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ فَهِيَ تَطْلِيقَةٌ بَائِنَةٌ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর বিবিদের সাথে ঈলা করে একটি হালাল বিষয়কে নিজের জন্য হারাম করে নিলেন তারপর এই হারামকে হালাল করলেন এবং পরে শপথ (ভঙ্গের)-এর কারণে কাফফারা দিলেন।
এ অনুচ্ছেদে আনাস ও আবূ মূসা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ উল্লেখিত হাদীসটি আলী ইবনু মুসহির এবং অন্যান্যরা দাঊদ-এর সূত্রে ইমাম শাবী (রহঃ) হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে মাসরূক ও আইশা (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। এই (মুরসাল) বর্ণনাটি মাসলামা ইবনু আলকামার বর্ণনার চেয়ে অনেক বেশী সহীহ। কোন লোক চার মাস বা তার বেশী সময় নিজ বিবির নিকটে না যাওয়ার (সহবাস না করার) কসম করলে তাকে ‘ঈলা’ বলে। চার মাস চলে গেলে এবং এর মধ্যে স্ত্রীর নিকটে না গেলে তার পরিণতি কি হবে তা নিয়ে আলিমদের মাঝে মতের অমিল আছে। নাবী (ﷺ)-এর একদল সাহাবী ও বিশেষজ্ঞ আলিমদের মতে চার মাস চলে যাবার পর সে ক্ষান্ত হবে এবং নির্ধারণ করবে যে, হয় তাকে ফেরত নিবে অথবা তালাক দিবে। মালিক ইবনু আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের এই অভিমত। নাবী (ﷺ)-এর অপর একদল সাহাবী ও বিশেষজ্ঞ আলিমদের মতেঃ চার মাস চলে গেলে স্বাভাবিকভাবে এক বাইন তালাক হয়ে যাবে। সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসী ফাকীহগণের এই মত।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ঈলা, শপথ এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে ঈলা করেছিলেন এবং একটি হালাল বিষয় নিজের জন্য হারাম করে নিয়েছিলেন। পরে তিনি সেই বিষয়কে আবার হালাল হিসেবে গ্রহণ করেন এবং শপথ ভাঙার কারণে কাফফারা দেন। এতে বোঝা যায়, ব্যক্তিগত শপথের কারণে আল্লাহর হালাল করা কোনো বিষয় স্থায়ীভাবে হারাম হয়ে যায় না। ভুল সিদ্ধান্ত বা কঠিন শপথ থেকে ফিরে আসার পথও রয়েছে। তবে শপথকে হালকা করে দেখা ঠিক নয়; শপথ ভাঙলে তার নির্ধারিত দায় পূরণ করতে হয়। হাদিসটি আমাদের শেখায়, আবেগ বা পারিবারিক পরিস্থিতিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত সংশোধন করা যায়, কিন্তু সেই সংশোধন দায়িত্বশীলভাবে করতে হবে। তাই শপথের বিধান জানা, হালাল-হারামের সীমা মানা এবং প্রয়োজন হলে কাফফারা দেওয়া জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ব্যক্তিগত শপথ আল্লাহর হালাল করা বিষয়কে স্থায়ীভাবে হারাম করে না।
- শপথ ভেঙে হালাল বিষয়ে ফিরে এলে কাফফারা দিতে হয়।
- পারিবারিক সিদ্ধান্তে ভুল হলে তা সংশোধন করা যায়।
- শপথকে গুরুত্ব দিয়ে তার দায় যথাযথভাবে পূরণ করা উচিত।
