১২/৪৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৭০ - ক্রেতা-বিক্রেতার মতবিরোধে সমাধান
ক্রেতা-বিক্রেতা পরস্পরের মধ্যে মতবিরোধ হলে
ক্রেতা ও বিক্রেতার মতবিরোধ হলে কার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১২৭০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১২৭০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «إِذَا اخْتَلَفَ الْبَيِّعَانِ فَالْقَوْلُ قَوْلُ الْبَائِعِ وَالْمُبْتَاعُ بِالْخِيَارِ». قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ مُرْسَلٌ عَوْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ لَمْ يُدْرِكِ ابْنَ مَسْعُودٍ. وَقَدْ رُوِيَ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ هَذَا الْحَدِيثُ أَيْضًا وَهُوَ مُرْسَلٌ أَيْضًا. قَالَ أَبُو عِيسَى قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ قُلْتُ لأَحْمَدَ إِذَا اخْتَلَفَ الْبَيِّعَانِ وَلَمْ تَكُنْ بَيِّنَةٌ قَالَ الْقَوْلُ مَا قَالَ رَبُّ السِّلْعَةِ أَوْ يَتَرَادَّانِ . قَالَ إِسْحَاقُ كَمَا قَالَ وَكُلُّ مَنْ كَانَ الْقَوْلُ قَوْلَهُ فَعَلَيْهِ الْيَمِينُ. قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رُوِيَ عَنْ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ التَّابِعِينَ مِنْهُمْ شُرَيْحٌ وَغَيْرُهُ نَحْوُ هَذَا.
ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ক্রয়কারী ও বিক্রয়কারীদের মধ্যে মত পার্থক্য হলে বিক্রেতার মতই বেশি প্রাধান্য পাবে, তবে ক্রয়কারীর ক্রয় বাতিলের স্বাধীনতা থাকবে।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা মুরসাল বলেছেন। ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-এর সাথে কখনও আওন ইবনু আবদুল্লাহ্র সাক্ষাৎ ঘটেনি। ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-এর এ হাদীসটি কাসিম ইবনু আবদুর রাহমানও ইবনু মাসঊদ হতে, তিনি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনাটিও মুরসাল। ইসহাক ইবনু মানসূর বলেন, আমি ইমাম আহ্মাদকে প্রশ্ন করলাম, ক্রয়কারী ও বিক্রয়কারী একে অপরের সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়লে এবং কোন সাক্ষী না থাকলে কি করতে হবে? তিনি বললেন, বিক্রেতার মতই বেশি প্রাধান্য পাবে অথবা দুজনই ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করবে। ইমাম ইসহাক কিছুটা এভাবে বলেছেন, যার মতকে বিনা প্রমাণে গ্রহণ করা হবে তাকে শপথ করাতে হবে। কিছু সংখ্যক তাবিঈও একইরকম কথা বলেছেন। শুরাইহ (রহঃ) তাদের অন্যতম।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৭০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ক্রয়-বিক্রয়ের পর মতবিরোধের সমাধান। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে বর্ণিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে পণ্যের মূল্য, শর্ত বা লেনদেন নিয়ে মতপার্থক্য হলে বিক্রেতার বক্তব্যকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। তবে ক্রেতাকে জোর করে সেই লেনদেনে আটকে রাখা হবে না; তার ক্রয় বাতিল করার সুযোগ থাকবে। আরবি বর্ণনার পরের আলোচনায় প্রমাণ না থাকার অবস্থার কথা এসেছে এবং যার বক্তব্য গ্রহণ করা হবে, তার শপথের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, হাদিসটি প্রমাণহীন বিরোধের একটি সমাধানপদ্ধতি তুলে ধরে। এটি বিক্রেতাকে যা ইচ্ছা দাবি করার সুযোগ দেয় না এবং ক্রেতার অধিকারও পুরোপুরি বাতিল করে না। বরং বিক্রেতার বক্তব্য গ্রহণের পাশাপাশি ক্রেতাকে পণ্য ফেরত দিয়ে লেনদেন থেকে সরে যাওয়ার পথ রাখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ক্রয়-বিক্রয়ের শর্ত আগে থেকেই পরিষ্কার করা উচিত।
- প্রমাণ না থাকলে হাদিসে বিক্রেতার বক্তব্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
- ক্রেতার জন্য লেনদেন বাতিল করে সরে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
