১২/৪২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৬৯ - মিথ্যা শপথে সম্পদ আত্মসাতের ভয়াবহতা
কোন মুসলমানের সম্পদ আত্মসাতের জন্য মিথ্যা শপথ করা
মিথ্যা শপথ করে অন্যের সম্পদ নেওয়ার কঠোর পরিণতি
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১২৬৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১২৬৯
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ وَهُوَ فِيهَا فَاجِرٌ لِيَقْتَطِعَ بِهَا مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ».فَقَالَ الأَشْعَثُ بْنُ قَيْسٍ فِيَّ وَاللَّهِ لَقَدْ كَانَ ذَلِكَ كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ رَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ أَرْضٌ فَجَحَدَنِي فَقَدَّمْتُهُ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَلَكَ بَيِّنَةٌ " . قُلْتُ لاَ. فَقَالَ لِلْيَهُودِيِّ " احْلِفْ». فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذًا يَحْلِفَ فَيَذْهَبَ بِمَالِي. فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: (إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً﴿. إِلَى آخِرِ الآيَةِ.قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ وَأَبِي مُوسَى وَأَبِي أُمَامَةَ بْنِ ثَعْلَبَةَ الأَنْصَارِيِّ وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ. وَحَدِيثُ ابْنِ مَسْعُودٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মিথ্যা শপথের মাধ্যমে যদি কোন লোক কোন মুসলমানের ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করে তবে সে এরূপ অবস্থায় আল্লাহ্ তা’আলার সামনে উপস্থিত হবে যে, তিনি তার প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট থাকবেন। আশআস ইবনু কাইস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! তিনি এ হাদীসটি আমার সম্পর্কে বলেছেন। আমার ও এক ইয়াহূদীর মধ্যে একটি শরীকানা জমি ছিল। কিন্তু সে আমার অংশ দিতে অস্বীকার করে বসে। আমি তাকে নিয়ে নবী (ﷺ)-এর নিকট আসি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তোমার সাক্ষীপ্রমাণ আছে কি? আমি বললাম, না। তিনি ইয়াহূদীকে বললেনঃ শপথ কর। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ তো শপথ করবেই এবং আমার সম্পদ আত্মসাৎ করবে।আল্লাহ তা’আলা তখন এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “যারা আল্লাহ্ তা’আলার সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথসমূহ সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে বিক্রয় করে, আখিরাতে তাদের জন্য কোন অংশ নেই। কেয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা’আলা না তাদের সাথে কথা বলবেন, না তাদের প্রতি তাকাবেন আর না তাদেরকে পবিত্র করবেন। তাদের জন্য রয়েছে কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি” (সূরাঃ আলে-ইমরান - ৭৭)।
আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে ওয়াইল ইবনু হুজর, আবূ মূসা, আবূ উমামা ও ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ্।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৬৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো মিথ্যা শপথের মাধ্যমে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি জেনে-শুনে মিথ্যা শপথ করে কোনো মুসলিমের সম্পদ নিয়ে নেয়, সে আল্লাহর সামনে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যখন আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকবেন। আশআস ইবনু কাইস (রাঃ) জানান, তাঁর ও এক ইহুদির মধ্যে অংশীদারি জমি নিয়ে বিরোধ হয়েছিল। তাঁর কাছে সাক্ষ্যপ্রমাণ ছিল না। তখন অপর পক্ষকে শপথ করতে বলা হয়। আশআস (রাঃ) আশঙ্কা করেন, সে মিথ্যা শপথ করে তাঁর সম্পদ নিয়ে নেবে। এরপর আল্লাহর অঙ্গীকার ও শপথ সামান্য স্বার্থে বিক্রি করার বিষয়ে সূরা আলে ইমরানের ৭৭ নম্বর আয়াত নাজিল হয়। হাদিসটি দেখায়, আদালত বা মানুষের সামনে শপথ করে পার পাওয়া গেলেও মিথ্যা শপথের নৈতিক ও আখিরাতের দায় দূর হয় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যের সম্পদ নেওয়ার জন্য মিথ্যা শপথ করা গুরুতর অপরাধ।
- সম্পদের বিরোধে সাক্ষ্যপ্রমাণের গুরুত্ব রয়েছে।
- সামান্য দুনিয়াবি লাভের জন্য আল্লাহর নামে করা শপথের অপব্যবহার করা যাবে না।
- মানুষের বিচারে সুবিধা পেলেও মিথ্যার দায় আল্লাহর কাছে থেকে যায়।
