১/৯৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৯ - ইস্তিহাযা রোগিণীর গোসল ও নামাজ
ইস্তিহাজার রোগিণী প্রত্যেক নামাজের জন্য গোসল করবে
ইস্তিহাযা রোগিণীর গোসল: নামাজ ছাড়ার নয়, আদায়ের শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১২৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১২৯
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتِ اسْتَفْتَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ ابْنَةُ جَحْشٍ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقَالَتْ إِنِّي أُسْتَحَاضُ فَلاَ أَطْهُرُ أَفَأَدَعُ الصَّلاَةَ فَقَالَ «لاَ إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ فَاغْتَسِلِي ثُمَّ صَلِّي " . فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلاَةٍ . قَالَ قُتَيْبَةُ قَالَ اللَّيْثُ لَمْ يَذْكُرِ ابْنُ شِهَابٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَمَرَ أُمَّ حَبِيبَةَ أَنْ تَغْتَسِلَ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ وَلَكِنَّهُ شَيْءٌ فَعَلَتْهُ هِيَ .قَالَ أَبُو عِيسَى وَيُرْوَى هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتِ اسْتَفْتَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ . وَقَدْ قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْمُسْتَحَاضَةُ تَغْتَسِلُ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ . وَرَوَى الأَوْزَاعِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ وَعَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জাহ্শ কন্যা উম্মু হাবীবা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ফাতোয়া জানতে চাইলেন। তিনি বললেন, আমি সর্বদা ইস্তিহাযার রোগে আক্রান্ত থাকি এবং কখনও পবিত্র হই না। আমি কি নামায ছেড়ে দেব? তিনি বললেনঃ "না, এটা একটি শিরার রক্ত; তুমি গোসল করে নামায আদায় করবে। " অতঃপর তিনি (উম্মু হাবীবা) প্রত্যেক নামাযের জন্য গোসল করতেন।
কুতাইবা বলেন, লাইস বলেছেন, ইবনু শিহাব (তাঁর বর্ণনায়) একথা উল্লেখ করেননি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু হাবীবাকে প্রত্যেক নামাযের সময় গোসল করার নির্দেশ দিয়েছেন। বরং তিনি স্বেচ্ছায় একাজ করতেন (নিজের ইজতিহাদের ভিত্তিতে)। আবূ 'ঈসা বলেন, যুহরীও 'আমরার সূত্রে, তিনি 'আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কোন কোন মনীষীর মতে ইস্তিহাযার রোগিণীকে প্রত্যেক নামাযের জন্য গোসল করতে হবে। ‘আওযায়ী যুহরী হতে, তিনি ‘উরওয়া ও ‘আমরা হতে, তাঁরা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে পূর্বোক্ত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মু হাবীবা বিনতে জাহশ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে ফাতওয়া চান। তিনি বলেন, তিনি সব সময় ইস্তিহাযায় আক্রান্ত থাকেন এবং পবিত্র হন না, তাহলে কি নামাজ ছেড়ে দেবেন? নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, না; এটি শিরার রক্ত। এরপর তিনি বলেন, গোসল করে নামাজ আদায় কর। বর্ণনায় এসেছে, উম্মু হাবীবা (রাঃ) প্রত্যেক নামাজের জন্য গোসল করতেন। তবে হাদিসের ভেতরেই বলা আছে, প্রত্যেক নামাজের জন্য গোসল করা তাঁর নিজের আমল ছিল; রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সরাসরি তা আদেশ করেছেন—এ কথা বর্ণনাকারী উল্লেখ করেননি। তাই মূল শিক্ষা হলো, ইস্তিহাযা নামাজ বন্ধ করার কারণ নয়; পবিত্রতার ব্যবস্থা নিয়ে নামাজ চালু রাখতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইস্তিহাযা শিরার রক্ত, হায়েজ নয়।
- ইস্তিহাযার কারণে নামাজ পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
- গোসল করে নামাজ আদায়ের নির্দেশ এসেছে।
- প্রত্যেক নামাজে গোসল করা বর্ণনায় ব্যক্তিগত আমল হিসেবে এসেছে।
