১৩/১. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩২২ - বিচারকের দায় ও ন্যায়বিচারের পরিণতি

কাজী (বিচারক) প্রসঙ্গে

ন্যায়বিচার ও বিচারকের দায়: তিন ধরনের কাজীর পরিণতি

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩২২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الْمَلِكِ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ، أَنَّ عُثْمَانَ، قَالَ لاِبْنِ عُمَرَ اذْهَبْ فَاقْضِ بَيْنَ النَّاسِ . قَالَ أَوَتُعَافِينِي يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ . قَالَ وَمَا تَكْرَهُ مِنْ ذَلِكَ وَقَدْ كَانَ أَبُوكَ يَقْضِي قَالَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «مَنْ كَانَ قَاضِيًا فَقَضَى بِالْعَدْلِ فَبِالْحَرِيِّ أَنْ يَنْقَلِبَ مِنْهُ كَفَافًا» . فَمَا أَرْجُو بَعْدَ ذَلِكَ وَفِي الْحَدِيثِ قِصَّةٌ .وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ عِنْدِي بِمُتَّصِلٍ . وَعَبْدُ الْمَلِكِ الَّذِي رَوَى عَنْهُ الْمُعْتَمِرُ هَذَا هُوَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي جَمِيلَةَ .حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ «الْقُضَاةُ ثَلاَثَةٌ قَاضِيَانِ فِي النَّارِ وَقَاضٍ فِي الْجَنَّةِ رَجُلٌ قَضَى بِغَيْرِ الْحَقِّ فَعَلِمَ ذَاكَ فَذَاكَ فِي النَّارِ وَقَاضٍ لاَ يَعْلَمُ فَأَهْلَكَ حُقُوقَ النَّاسِ فَهُوَ فِي النَّارِ وَقَاضٍ قَضَى بِالْحَقِّ فَذَلِكَ فِي الْجَنَّةِ " .

আবদুল্লাহ ইবনু মাওহাব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

১৩২২/১. উসমান (রাঃ) ইবনু উমর (রাঃ)-কে বলেন, যাও! লোকদের মাঝে বিচার-ফায়সালা কর। তিনি বললেন, হে মু’মিনদের নেতা! আমাকে কি মাফ করবেন? তিনি বললেন, এ পদটি তুমি কেন অপছন্দ করছ, অথচ তোমার পিতা বিচার-ফায়সালা করতেন? তিনি উত্তরে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যক্তি কাযী (বিচারক) নিযুক্ত হয়ে ইনসাফের উপর বিচার-ফায়সালা করলেও সে বরাবর আমল নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে (না তার কোন গুনাহ আছে আর না তার কোন সাওয়াব আছে। এরপর আমি আর কি আশা করতে পারি? যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৩৭৪৩)।তা’লীকুর রাগীব (২/১৩২) তা’লীক আলা আহাদীস মুখতারাহ (৩৪৮,৩৪৯) এ হাদীসের সাথে একটি ঘটনা আছে। এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু উমর (রাঃ)-এর হাদীসটি গারীব। আমার মতে এ হাদীসের সনদ পরস্পর সংযুক্ত নয়। কেননা যে আবদুল মালিক হতে মুতামির রিওয়াত করেছেন তিনি হলেন আবদুল মালিক ইবনু আবূ জামীলা।---------------------- ১৩২২/২. বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কাযীগণ তিন প্রকারের হয়ে থাকে। দুই প্রকারের কাযী (বিচারক) হচ্ছে জাহান্নামী এবং এক প্রকার কাযী হচ্ছে জান্নাতী। জেনেশুনে যে লোক (বিচারক) অন্যায় রায় প্রদান করে সে হচ্ছে জাহান্নামী। সত্যকে সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি না করেই যে লোক (বিচারক) মানুষের অধিকারসমূহ নস্যাৎ করে সে লোকও জাহান্নামী। আর যে লোক ন্যায়সঙ্গতভাবে ফায়সালা প্রদান করে (বিচারক) সে জান্নাতের অধিবাসী।

সহীহ্‌, ইরওয়া- (২৬১৪), মিশকাত- (৩৭৩৫)

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩২২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে বিচারকের দায়িত্ব কত ভারী, তা দুইটি বর্ণনার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে। প্রথম অংশে ইবনু উমর (রাঃ) বিচারকের পদ নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি এমন একটি বাণী উল্লেখ করেন, যেখানে ন্যায়বিচার করেও বিচারক সমান অবস্থায় ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, বিচারকের দায়িত্বে সামান্য ভুলও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দ্বিতীয় অংশে বিচারকদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যে বিচারক সত্য জেনেও অন্যায় রায় দেয়, সে নিন্দিত। যে সত্য পুরোপুরি না বুঝে মানুষের অধিকার নষ্ট করে, সেও নিন্দিত। আর যে ন্যায়সঙ্গতভাবে ফয়সালা করে, তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ এসেছে। তাই বিচারকের মূল দায়িত্ব হলো সত্য জানা, মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং পক্ষপাতহীন সিদ্ধান্ত দেওয়া। পদটির সম্মান থাকলেও এর জবাবদিহি আরও বড়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বিচারকের পদ সম্মানের পাশাপাশি কঠিন জবাবদিহির দায়িত্ব।
  • সত্য জেনেও অন্যায় রায় দেওয়া গুরুতর অপরাধ।
  • বিষয় না বুঝে রায় দিলে মানুষের অধিকার নষ্ট হতে পারে।
  • ন্যায়সঙ্গত ফয়সালা বিচারকের সঠিক পথ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন