১৩/১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩২৩ - বিচারকের পদ চাওয়া ও আল্লাহর সাহায্য
কাজী (বিচারক) প্রসঙ্গে
বিচারকের পদ চাওয়া: দায়িত্ব, ইনসাফ ও আল্লাহর সাহায্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩২৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩২৩
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ بِلاَلِ بْنِ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ سَأَلَ الْقَضَاءَ وُكِلَ إِلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أُجْبِرَ عَلَيْهِ يُنْزِلُ اللَّهُ عَلَيْهِ مَلَكًا فَيُسَدِّدُهُ ".
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কাযীর পদ চেয়ে নেয় তার দায়দায়িত্ব তার উপরই চাপিয়ে দেয়া হয়। আর যাকে এই পদ গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয় আল্লাহ তা'আলা তার নিকট একজন ফেরেশতা পাঠিয়ে দেন যিনি তাকে ইনসাফের পথে থাকতে সহযোগিতা করেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় বিচারকের পদ চাওয়া। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজে বিচারকের দায়িত্ব চেয়ে নেয়, তাকে তার নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ সে নিজের যোগ্যতা, বিবেচনা ও শক্তির ওপর নির্ভর করে কঠিন দায়িত্বে প্রবেশ করে। অন্যদিকে, যাকে তার ইচ্ছার বাইরে এ দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা হয়, তার জন্য আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান, যিনি তাকে ইনসাফের পথে থাকতে সহায়তা করেন। হাদিসটি পদ লাভের আগ্রহের চেয়ে দায়িত্বের ভয় ও সতর্কতাকে সামনে আনে। বিচারকের কাজ শুধু মত দেওয়া নয়; মানুষের অধিকার, সম্পদ ও সম্মানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া। তাই এ পদ চাওয়ার আগে নিজের উদ্দেশ্য ও সক্ষমতা নিয়ে গভীরভাবে ভাবা দরকার। হাদিসে বাধ্য হয়ে দায়িত্ব নেওয়া ব্যক্তির জন্য সাহায্যের কথা এসেছে, তবে তাকেও ন্যায়বিচারের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচারকের পদ নিজে চেয়ে নেওয়া বড় দায় বহনের বিষয়।
- দায়িত্ব পাওয়ার ইচ্ছার আগে নিজের যোগ্যতা ও উদ্দেশ্য যাচাই করা দরকার।
- বাধ্য হয়ে দায়িত্ব নেওয়া বিচারককে ইনসাফে সহায়তার কথা হাদিসে এসেছে।
- বিচারকার্যে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার চেয়ে ন্যায়বিচার গুরুত্বপূর্ণ।
