১৩/১৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৫৩ - প্রতিবেশীর কাজে সহযোগিতা
যে লোক তার প্রতিবেশীর দেয়ালের সাথে (নিজ ঘরের) কড়িকাঠ স্থাপন করে
প্রতিবেশীর অধিকার: দেয়ালে কড়িকাঠ বসাতে বাধা নয়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩৫৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩৫৩
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «إِذَا اسْتَأْذَنَ أَحَدَكُمْ جَارُهُ أَنْ يَغْرِزَ خَشَبَةً فِي جِدَارِهِ فَلاَ يَمْنَعْهُ» . فَلَمَّا حَدَّثَ أَبُو هُرَيْرَةَ طَأْطَئُوا رُءُوسَهُمْ فَقَالَ مَا لِي أَرَاكُمْ عَنْهَا مُعْرِضِينَ وَاللَّهِ لأَرْمِيَنَّ بِهَا بَيْنَ أَكْتَافِكُمْ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَمُجَمِّعِ بْنِ جَارِيَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ . وَرُوِيَ عَنْ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمْ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ قَالُوا لَهُ أَنْ يَمْنَعَ جَارَهُ أَنْ يَضَعَ خَشَبَهُ فِي جِدَارِهِ . وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কোন লোকের নিকট যদি তার প্রতিবেশী তার (ঘরের) দেয়ালের সাথে কড়িকাঠ স্থাপনের সম্মতি চায় তবে সে যেন তাকে বারণ না করে। এ হাদীসটি আবূ হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করলে লোকেরা তাদের মাথা অবনমিত করে। তিনি তখন বললেন, কি ব্যাপার! আমি তোমাদেরকে এ হতে বিমুখ হতে দেখছি কেন? আল্লাহর শপথ! আমি তা তোমাদের কাঁধের উপর ছুঁড়ে মারবো।
ইবনু আব্বাস ও মুজাম্মি' ইবনু জারিয়া (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা (রহঃ) হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেন। ইমাম শাফিঈও এমন কথা বলেছেন। অন্য একদল আলিম বলেছেন, কোন লোকের দেয়ালে তার প্রতিবেশী কড়িকাঠ স্থাপনের ইচ্ছা করলে সেটাতে তার বাঁধা প্রদানের অধিকার আছে। ইমাম মালিকেরও এই অভিমত। কিন্তু প্রথমোক্ত মতই অনেক বেশি সহীহ্।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে প্রতিবেশীর সঙ্গে বাস্তব সহযোগিতার একটি সহজ উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিবেশী যদি ঘরের দেয়ালের সঙ্গে কড়িকাঠ বসানোর অনুমতি চায়, তাহলে তাকে বাধা না দিতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ নিজের সম্পদের অধিকার থাকলেও প্রতিবেশীর যুক্তিসঙ্গত প্রয়োজনকে একেবারে উপেক্ষা করা উচিত নয়। আবু হুরাইরা রা. যখন হাদিসটি বললেন, কিছু মানুষ অনাগ্রহ দেখালে তিনি কঠোরভাবে তা স্মরণ করিয়ে দেন। এতে বোঝা যায়, তিনি এই নির্দেশকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিলেন। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো প্রতিবেশীর অধিকার, পারস্পরিক সুবিধা এবং অযথা বাধা না দেওয়া। তবে বাস্তব প্রয়োগে ক্ষতি, নিরাপত্তা বা মালিকানার জটিলতা থাকলে তা দায়িত্বশীলভাবে বিবেচনা করতে হবে। বর্ণনায় আলেমদের মতভেদের কথাও আছে, তাই এমন বিরোধে ন্যায়সঙ্গত সমঝোতা ও জ্ঞানী পরামর্শ জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রতিবেশীর যুক্তিসঙ্গত প্রয়োজন অযথা বাধা দেওয়া উচিত নয়।
- নিজের অধিকার ব্যবহারের সময় পাশের মানুষের সুবিধাও বিবেচনা করতে হয়।
- প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কিত নববী নির্দেশকে গুরুত্ব দিতে হয়।
- মতভেদ হলে ক্ষতি এড়িয়ে ন্যায়সঙ্গত সমঝোতা করা দরকার।
