১৩/২২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৫৮ - নিজ উপার্জনের উত্তম জীবিকা
বাবা তার সন্তানের সম্পদ হতে নিতে পারে
নিজের উপার্জনই উত্তম জীবিকা: সন্তানও উপার্জনের অংশ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩৫৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩৫৮
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَمَّتِهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّ أَطْيَبَ مَا أَكَلْتُمْ مِنْ كَسْبِكُمْ وَإِنَّ أَوْلاَدَكُمْ مِنْ كَسْبِكُمْ " .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو. قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ. وَقَدْ رَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ أُمِّهِ عَنْ عَائِشَةَ . وَأَكْثَرُهُمْ قَالُوا عَنْ عَمَّتِهِ عَنْ عَائِشَةَ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ قَالُوا إِنَّ يَدَ الْوَالِدِ مَبْسُوطَةٌ فِي مَالِ وَلَدِهِ يَأْخُذُ مَا شَاءَ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ يَأْخُذُ مِنْ مَالِهِ إِلاَّ عِنْدَ الْحَاجَةِ إِلَيْهِ.
আয়শা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের নিজেদের উপার্জনই সর্বোত্তম জীবিকা। তোমাদের সন্তানগণও তোমাদের নিজস্ব উপার্জন।
জাবির ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি কোন কোন বর্ণনাকারী উমারা ইবনু উমাইর-তার মাতার সূত্রে-আয়শা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাদের বেশিরভাগই মাতার পরিবর্তে ফুফু বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিম আমল করেছেন। তাঁরা বলেছেন, পিতার হাত সন্তানের সম্পদের উপর সম্প্রসারিত। সে যতটুকু ইচ্ছা তা হতে নিতে পারে। তাদের অন্য এক দল বলেছেন, পিতা যেন শুধু প্রয়োজনের সময়ই সন্তানের সম্পদ হতে নেয়। প্রয়োজন ব্যতীত সে তার মালে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, মানুষ যে খাবার নিজের উপার্জন থেকে খায় তা উত্তম, এবং সন্তানও তার উপার্জনের অংশ। প্রথম শিক্ষা হলো নিজের শ্রম, চেষ্টা ও বৈধ আয় থেকে জীবন চালানোর মর্যাদা। পরিশ্রম করে অর্জিত সম্পদ থেকে খাওয়া মানুষের দায়িত্বশীলতা ও আত্মনির্ভরতার পরিচয় দেয়। দ্বিতীয় অংশে সন্তানকে পিতা-মাতার উপার্জনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলা হয়েছে। এতে সন্তান ও পিতা-মাতার গভীর পারিবারিক সম্পর্ক বোঝা যায়। তবে এই বাক্যকে সন্তানের সম্পদের ওপর সীমাহীন অধিকার হিসেবে নিজের মতো ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। বর্ণনার পরের আলোচনায় আলেমদের ভিন্ন মত আছে—কেউ বিস্তৃত অধিকার বলেছেন, কেউ প্রয়োজনের সময় নেওয়ার কথা বলেছেন। তাই মূল হাদিস থেকে শিক্ষা হলো, নিজের উপার্জন সম্মানজনক এবং সন্তান পরিবারে পিতা-মাতার শ্রম ও দায়িত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজের বৈধ উপার্জন থেকে খাওয়া উত্তম জীবিকার অংশ।
- শ্রম ও চেষ্টা করে আয় করাকে সম্মান করা হয়েছে।
- সন্তান পিতা-মাতার শ্রম ও পারিবারিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত।
- সন্তানের সম্পদ নিয়ে সীমাহীন অধিকার দাবি করা হাদিসের সরাসরি বক্তব্য নয়।
