১৩/২১. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৫৭ - সন্তানের অভিভাবক বেছে নেওয়া

বাবা-মার মধ্যে (বিবাহ) বিচ্ছেদ হলে সন্তানকে তাদের যে কোনো একজনকে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা প্রদান

সন্তানের হেফাজত: বাবা-মায়ের মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩৫৭

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ الثَّعْلَبِيِّ، عَنْ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ خَيَّرَ غُلاَمًا بَيْنَ أَبِيهِ وَأُمِّهِ .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَجَدِّ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو مَيْمُونَةَ اسْمُهُ سُلَيْمٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ قَالُوا يُخَيَّرُ الْغُلاَمُ بَيْنَ أَبَوَيْهِ إِذَا وَقَعَتْ بَيْنَهُمَا الْمُنَازَعَةُ فِي الْوَلَدِ . وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَقَالاَ مَا كَانَ الْوَلَدُ صَغِيرًا فَالأُمُّ أَحَقُّ فَإِذَا بَلَغَ الْغُلاَمُ سَبْعَ سِنِينَ خُيِّرَ بَيْنَ أَبَوَيْهِ . هِلاَلُ بْنُ أَبِي مَيْمُونَةَ هُوَ هِلاَلُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أُسَامَةَ وَهُوَ مَدَنِيٌّ وَقَدْ رَوَى عَنْهُ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَفُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ .

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) একটি ছেলেকে তার আব্বা ও আম্মা উভয়ের যে কোন একজনকে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা প্রদান করেন।

আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবদুল হামীদ ইবনু জাফরের দাদা হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। আবূ মাইমুনার নাম সুলাইম। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তৎপরবর্তী একদল আলিম আমল করেছেন। তাঁরা বলেছেন, আব্বা-আম্মার মধ্যে যদি সন্তানকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার সৃষ্টি হয় তবে সন্তানকে স্বাধীনতা প্রদান করতে হবে। সে যাকে পছন্দ করবে তার সাথে থাকবে। ইমাম আহ্‌মাদ ও ইসহাকেরও এই মত। তাঁরা উভয়ে বলেছেন, সন্তান ছোট হলে তার লালন-পালনের জন্যে মাই বেশি হাকদার। সে যখন সাত বছরে পৌছাবে তখন তাকে স্বাধীনতা দিতে হবে (সে যার সাথে থাকার ইচ্ছা করবে তার সাথে থাকবে)। হিলাল ইবনু আবূ মাইমূনার আব্বা আলী এবং দাদা উসামা। তিনি মাদীনার অধিবাসী। ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু আবূ কাসীর, মালিক ইবনু আনাস ও ফুলাইহ্‌ ইবনু সুলাইমান তার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৫৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم একটি ছেলেকে তার বাবা ও মায়ের মধ্যে যেকোনো একজনকে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন। মূল বিষয় হলো, সন্তানকে নিয়ে বাবা-মায়ের মধ্যে বিরোধ হলে শিশুর মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। হাদিসের পরের আলোচনায় কিছু আলেম বলেছেন, শিশু ছোট থাকলে মা বেশি হকদার, আর নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছালে তাকে বাবা-মায়ের মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায়। তবে এই বিস্তারিত মত সরাসরি মূল বাক্যের অংশ নয়; এটি বর্ণনার সঙ্গে থাকা আলেমদের ব্যাখ্যা। তাই হাদিস থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, নবী صلى الله عليه وسلم এক ঘটনায় ছেলেটিকে পছন্দের সুযোগ দিয়েছিলেন। এতে সন্তানের অবস্থানকে শুধু সম্পত্তির মতো দেখা হয়নি; তার ইচ্ছাও বিবেচিত হয়েছে। পারিবারিক বিরোধে শিশুর কল্যাণ, নিরাপত্তা এবং মতামতকে দায়িত্বশীলভাবে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সন্তানকে বাবা-মায়ের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
  • হেফাজতের বিরোধে শিশুর মতামত বিবেচিত হতে পারে।
  • শিশুকে বিরোধের বস্তু না বানিয়ে তার অবস্থান বুঝতে হয়।
  • আলেমদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা মূল হাদিসের বাক্য থেকে আলাদা করে বুঝতে হবে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন