১৩/২৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৬৩ - পানি বণ্টনে ন্যায়বিচার ও নবীর ফয়সালা
দুই ব্যক্তি প্রসঙ্গে, যাদের একজনের ভূমি পানি প্রবাহের নিম্নদিকে অবস্থিত
পানি বণ্টনে ন্যায়বিচার: রাসূলুল্লাহর ফয়সালা মেনে নেওয়া
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩৬৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩৬৩
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ حَدَّثَهُ أَنَّ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ خَاصَمَ الزُّبَيْرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي شِرَاجِ الْحَرَّةِ الَّتِي يَسْقُونَ بِهَا النَّخْلَ فَقَالَ الأَنْصَارِيُّ سَرِّحِ الْمَاءَ يَمُرُّ . فَأَبَى عَلَيْهِ فَاخْتَصَمُوا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِلزُّبَيْرِ " اسْقِ يَا زُبَيْرُ ثُمَّ أَرْسِلِ الْمَاءَ إِلَى جَارِكَ " . فَغَضِبَ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ كَانَ ابْنَ عَمَّتِكَ فَتَلَوَّنَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ثُمَّ قَالَ " يَا زُبَيْرُ اسْقِ ثُمَّ احْبِسِ الْمَاءَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى الْجَدْرِ " . فَقَالَ الزُّبَيْرُ وَاللَّهِ إِنِّي لأَحْسِبُ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فِي ذَلِكَ : (فَلاَ وَرَبِّكَ لاَ يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ) .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَى شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنِ الزُّبَيْرِ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ . وَرَوَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ عَنِ اللَّيْثِ وَيُونُسَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ نَحْوَ الْحَدِيثِ الأَوَّلِ .
'আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হাররা হতে বয়ে আসা নালার পানির বণ্টনকে কেন্দ্র করে যুবাইর (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে একজন আনসার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট অভিযোগ উত্থাপন করে। এ নালার পানি তারা খেজুর বাগানেও সিঞ্চন করতেন। আনসারী দাবি করল, পানি প্রবাহিত হতে দাও। কিন্তু যুবাইর (রাঃ) তা অস্বীকার করেন। তারা এই বিবাদকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে উপস্থাপন করল।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুবাইর (রাঃ)-কে বললেনঃ হে যুবাইর! তোমার ক্ষেতে পানি প্রবাহিত কর, তারপর তোমার প্রতিবেশীর ক্ষেতের দিকে তা প্রবাহিত হতে দাও। আনসারী এতে ক্রোধান্বিত হয়ে বলল, আপনার ফুফাত ভাই তো! এ কথায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুখমণ্ডল রক্তিমবর্ণ ধারণ করল। তিনি বললেনঃ হে যুবাইর! তোমার ক্ষেতে পানি প্রবাহিত কর, তারপর তা আটক করে রাখ-যাতে তা আইল পর্যন্ত উঠতে পারে। যুবাইর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমার মনে হয় এ প্রসঙ্গেই নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়েছেঃ“না, হে মুহাম্মাদ! তোমার প্রতিপালকের শপথ! এরা কোন অবস্থাতেই ঈমানদার হতে পারে না, যে পর্যন্ত না তাদের পারস্পরিক মতভেদের ব্যাপারসমূহে তোমাকে বিচারকরূপে মেনে না নিবে। তারপর তুমি যে ফায়সালাই করবে তার প্রসঙ্গে তারা নিজেদের মনে কিছুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করবে না; বরং নিজেদেরকে এর সামনে সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করবে" (সূরাঃ নিসা-৬৫)।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এই হাদীসটি শুআইব ইবনু আবূ হামযা-যুহ্রী হতে, তিনি উরওয়া হতে, তিনি যুবাইর (রাঃ) হতে এ সনদেও বর্ণিত আছে। তাতে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। পূর্বোক্ত হাদীসের মত আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহ্ব-লাইস হতে ও ইউনুস-যুহরী হতে, তিনি উরওয়া হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) হতে এ সূত্রেও বর্ণিত আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো পানি বণ্টনে ন্যায়বিচার এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ফয়সালা মেনে নেওয়া। যুবাইর (রাঃ) ও এক আনসারীর মধ্যে নালার পানি দিয়ে খেজুর বাগান সেচ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ হয়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে যুবাইর (রাঃ)-কে নিজের জমিতে প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে পরে প্রতিবেশীর দিকে ছেড়ে দিতে বলেন। এটি ছিল সহজ ও সমঝোতামূলক নির্দেশ। কিন্তু আনসারী আত্মীয়তার পক্ষপাতের অভিযোগ করলে তিনি পূর্ণ অধিকারের ভিত্তিতে ফয়সালা দেন। যুবাইর নিজের জমিতে পানি দেবেন এবং আইল পর্যন্ত পানি উঠলে পরে ছাড়বেন। হাদিসটি শেখায়, বিচারকের ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা ঠিক নয়। যুবাইর (রাঃ) এ ঘটনার সঙ্গে সূরা নিসার ৬৫ নম্বর আয়াতের সম্পর্ক মনে করেছিলেন, যেখানে বিরোধে নবীকে বিচারক মানা এবং তাঁর সিদ্ধান্তে আন্তরিকভাবে সমর্পিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পানি ও সেচের অধিকার নিয়ে বিরোধ হলে ন্যায়সঙ্গত ফয়সালা প্রয়োজন।
- প্রথম নির্দেশে নিজের প্রয়োজন পূরণ করে প্রতিবেশীর দিকে পানি ছাড়তে বলা হয়েছিল।
- বিচারের ক্ষেত্রে আত্মীয়তার অভিযোগ তুলে অন্যায় সন্দেহ করা উচিত নয়।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ফয়সালা আন্তরিকভাবে মেনে নেওয়া ঈমানের শিক্ষা।
