১৪/৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৯৩ - আঘাত মাফ করার ফজিলত
(দিয়াত) ক্ষমা প্রসঙ্গে
আঘাত মাফ করার ফজিলত: মর্যাদা বৃদ্ধি ও গুনাহ মাফ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩৯৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩৯৩
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا أَبُو السَّفَرِ، قَالَ دَقَّ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ سِنَّ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَاسْتَعْدَى عَلَيْهِ مُعَاوِيَةَ فَقَالَ لِمُعَاوِيَةَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّ هَذَا دَقَّ سِنِّي . قَالَ مُعَاوِيَةُ إِنَّا سَنُرْضِيكَ وَأَلَحَّ الآخَرُ عَلَى مُعَاوِيَةَ فَأَبْرَمَهُ فَلَمْ يُرْضِهِ فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَةُ شَأْنَكَ بِصَاحِبِكَ . وَأَبُو الدَّرْدَاءِ جَالِسٌ عِنْدَهُ قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «مَا مِنْ رَجُلٍ يُصَابُ بِشَيْءٍ فِي جَسَدِهِ فَيَتَصَدَّقُ بِهِ إِلاَّ رَفَعَهُ اللَّهُ بِهِ دَرَجَةً وَحَطَّ عَنْهُ بِهِ خَطِيئَةً». قَالَ الأَنْصَارِيُّ أَأَنْتَ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ سَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ وَوَعَاهُ قَلْبِي . قَالَ فَإِنِّي أَذَرُهَا لَهُ . قَالَ مُعَاوِيَةُ لاَ جَرَمَ لاَ أُخَيِّبُكَ . فَأَمَرَ لَهُ بِمَالٍ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَلاَ أَعْرِفُ لأَبِي السَّفَرِ سَمَاعًا مِنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَأَبُو السَّفَرِ اسْمُهُ سَعِيدُ بْنُ أَحْمَدَ وَيُقَالُ ابْنُ يُحْمِدَ الثَّوْرِيُّ .
আবুস সাফার (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেছেন, এক কুরাইশী এক আনসারীর দাঁত ভেঙ্গে ফেলে। সে মুআবিয়া (রাঃ)-এর আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। সে মুআবিয়া (রাঃ)-কে বলল, হে আমীরুল মু‘মিনীন! এই ব্যক্তি আমার দাঁত ভেঙ্গেছে। মুআবিয়া (রাঃ) বলেন, আমরা তোমাকে সন্তুষ্ট করব। অপর (অভিযুক্ত) ব্যক্তি মুআবিয়া (রাঃ)-কে পীড়াপীড়ি করতে থাকলো এবং বাদীকে বিনিময় গ্রহণে বাধ্য করাতে চাইল কিন্তু তিনি তাকে রাজি করাতে পারলেন না। মুআবিয়া (রাঃ) তাকে বললেন, তোমার সাথীকে তোমার নিকট ছেড়ে দিলাম (তুমি তাকে মাফ করতে পার আবার কিসাসও গ্রহণ করতে পার)।এ সময় আবূদ দারদা (রাঃ) তার নিকটে বসা ছিলেন। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যা আমি স্বয়ং কানে শুনেছি এবং আমার অন্তর মনে রেখেছেঃ “কোন ব্যক্তির শরীরের কোন অংশ (অন্যের দ্বারা) আহত হলে, তারপর সে (অভিযুক্তকে) মাফ করে দিলে, এর বিনিময়ে আল্লাহ তা‘আলা তার মর্যাদা আরো একধাপ বাড়িয়ে দেন এবং তার একটি গুনাহ মাফ করে দেন”।আনসারী ব্যক্তিটি তাকে প্রশ্ন করল, আপনি কি তা সরাসরি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে শুনেছেন? তিনি বললেন, আমার দুই কান তা শুনেছে এবং আমার অন্তর তা মনে রেখেছে। আনসারী বললেন, তাহলে আমি তাকে মাফ করলাম। মুআবিয়া (রাঃ) বললেন, আমি অবশ্যই তোমাকে বঞ্চিত করব না। তারপর তিনি তাকে কিছু মাল দেওয়ার নির্দেশ দেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আঘাতের বিচার, ক্ষমা এবং তার ফজিলত একটি ঘটনার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে। এক আনসারীর দাঁত ভেঙে গেলে তিনি মুআবিয়া (রাঃ)-এর কাছে বিচার চান। সমঝোতার চেষ্টা সফল না হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, অর্থাৎ তিনি চাইলে কিসাস নিতে বা ক্ষমা করতে পারতেন। তখন আবু দারদা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বাণী শোনান: কারও শরীরে আঘাত লাগার পর সে যদি তা ক্ষমা করে দেয়, আল্লাহ এর মাধ্যমে তার মর্যাদা এক ধাপ বাড়ান এবং একটি গুনাহ মাফ করেন। বাণীটি শুনে আনসারী অভিযুক্তকে ক্ষমা করেন। হাদিসটি ক্ষমার বড় নৈতিক মূল্য দেখায়, তবে আহত ব্যক্তির ন্যায্য অধিকারও অস্বীকার করে না। ক্ষমা স্বেচ্ছায় হতে হবে; চাপ দিয়ে আদায় করা নয়। ঘটনার শেষে মুআবিয়া (রাঃ) তাকে কিছু সম্পদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি চাইলে নিজের অধিকার ক্ষমা করতে পারেন।
- স্বেচ্ছায় ক্ষমা মর্যাদা বৃদ্ধির ও গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে।
- ক্ষমার আগে আহত ব্যক্তির ন্যায্য অধিকার স্বীকৃত ছিল।
- সমঝোতা বা ক্ষমা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
