১৫/৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৩২ - রজমের প্রমাণ ও উল্লেখিত শর্ত
রজম (পাথর মেরে হত্যা) -এর প্রমাণ
রজমের প্রমাণ: বিবাহিত হওয়া, সাক্ষ্য ও স্বীকারোক্তির উল্লেখ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৩২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৩২
حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ إِنَّ اللَّهَ بَعَثَ مُحَمَّدًا ﷺ بِالْحَقِّ وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ فَكَانَ فِيمَا أَنْزَلَ عَلَيْهِ آيَةُ الرَّجْمِ فَرَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَرَجَمْنَا بَعْدَهُ وَإِنِّي خَائِفٌ أَنْ يَطُولَ بِالنَّاسِ زَمَانٌ فَيَقُولَ قَائِلٌ لاَ نَجِدُ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَيَضِلُّوا بِتَرْكِ فَرِيضَةٍ أَنْزَلَهَا اللَّهُ أَلاَ وَإِنَّ الرَّجْمَ حَقٌّ عَلَى مَنْ زَنَى إِذَا أَحْصَنَ وَقَامَتِ الْبَيِّنَةُ أَوْ كَانَ حَبَلٌ أَوِ اعْتِرَافٌ.قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَرُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ.
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) -এর নিকট হতে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিনি (উমর) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর উপর কিতাব (কোরআন) নাযিল করেছেন। তিনি যা কিছু তাঁর উপর অবতীর্ণ করেছেন তার মধ্যে রজম বিষয়ক আয়াতও ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রজমের বিধান কার্যকর করেছেন। আমরাও তাঁর মৃত্যুর পর রজমের বিধান কার্যকর করেছি।আমার ভয় হচ্ছে, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর কেউ হয়তো বলবে, আল্লাহ তা‘আলার কিতাবে তো আমরা রজমের উল্লেখ দেখতে পাচ্ছি না। তারা এভাবেই আল্লাহ তা‘আলার নাযিলকৃত একটি বিধান ছেড়ে দিয়ে পথভ্রষ্ট হবে। সাবধান! যিনাকারীকে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করা আল্লাহ তা‘আলার কিতাব দ্বারা প্রমাণিত, যদি সে সুরক্ষিত (বিবাহিত) হয় এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ বিদ্যমান থাকে অথবা অন্তঃসত্ত্বা প্রকাশিত হয় অথবা নিজেই এর স্বীকারোক্তি করে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, আল্লাহ মুহাম্মদকে (صلى الله عليه وسلم) সত্যসহ পাঠিয়েছেন এবং তার ওপর কিতাব নাজিল করেছেন। তিনি রজমের আয়াত নাজিল হওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং জানান, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এই বিধান কার্যকর করেছেন। সাহাবিরাও তার মৃত্যুর পর তা কার্যকর করেছেন। উমর (রাঃ)-এর ভয় ছিল, দীর্ঘ সময় পর মানুষ কুরআনের লিখিত পাঠে রজমের উল্লেখ না পেয়ে একটি নাজিলকৃত বিধান ছেড়ে দিতে পারে। এরপর তিনি যিনাকারী বিবাহিত হলে তিন ধরনের প্রমাণের কথা বলেন—সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হওয়া, গর্ভধারণ প্রকাশ পাওয়া অথবা নিজের স্বীকারোক্তি। রজমের প্রমাণ ও শর্ত নিয়ে হাদিসটির বক্তব্য এগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এখানে সন্দেহ বা ভিত্তিহীন অভিযোগের ওপর শাস্তি দেওয়ার কথা বলা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহর মাধ্যমে রজম কার্যকরের কথা বর্ণনা করেছেন।
- তিনি রাসূলুল্লাহর পর সাহাবিদের আমলেও তা কার্যকর হওয়ার কথা বলেছেন।
- বর্ণনায় বিবাহিত হওয়ার শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- সাক্ষ্য, প্রকাশিত গর্ভধারণ অথবা স্বীকারোক্তিকে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
