১৫/৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪২৯ - স্বীকারোক্তির আগে মানসিক অবস্থা যাচাই
স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করলে হাদ্দ বাস্তবায়ন না করা
যিনার স্বীকারোক্তি: মানসিক সুস্থতা ও বৈবাহিক অবস্থা যাচাই
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪২৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪২৯
حَدَّثَنَا بِذَلِكَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ أَسْلَمَ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَاعْتَرَفَ بِالزِّنَا فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ اعْتَرَفَ فَأَعْرَضَ عَنْهُ حَتَّى شَهِدَ عَلَى نَفْسِهِ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " أَبِكَ جُنُونٌ " . قَالَ لاَ. قَالَ " أَحْصَنْتَ " . قَالَ نَعَمْ. قَالَ فَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ بِالْمُصَلَّى فَلَمَّا أَذْلَقَتْهُ الْحِجَارَةُ فَرَّ فَأُدْرِكَ فَرُجِمَ حَتَّى مَاتَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ خَيْرًا وَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الْمُعْتَرِفَ بِالزِّنَا إِذَا أَقَرَّ عَلَى نَفْسِهِ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ أُقِيمَ عَلَيْهِ الْحَدُّ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ. وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا أَقَرَّ عَلَى نَفْسِهِ مَرَّةً أُقِيمَ عَلَيْهِ الْحَدُّ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيِّ . وَحُجَّةُ مَنْ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ أَنَّ رَجُلَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ أَحَدُهُمَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنِي زَنَى بِامْرَأَةِ هَذَا الْحَدِيثَ بِطُولِهِ وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " اغْدُ يَا أُنَيْسُ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا فَإِنِ اعْتَرَفَتْ فَارْجُمْهَا " . وَلَمْ يَقُلْ فَإِنِ اعْتَرَفَتْ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলাম বংশের একজন লোক এসে ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি করে। তিনি তার সামনে থেকে মুখ সরিয়ে নিলেন। সে পুনরায় তার পাপ কর্মের স্বীকারোক্তি করে। পুনরায় তিনি তার কাছ থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। এমনিভাবে সে তার নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য প্রদান করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি পাগল নাকি? সে বলল, না। তিনি প্রশ্ন করেনঃ তুমি কি বিবাহিত? সে বলল, হ্যাঁ।তিনি তার ব্যাপারে রায় দিলেন এবং সে মোতাবিক তাকে ঈদগাহের ময়দানে নিয়ে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করা হল। পাথরের আঘাতে জর্জরিত হয়ে সে পালাতে থাকলে তাকে আটক করে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করা হয়। তার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভাল কথা বলেছেন (তার প্রশংসা করেছেন)। কিন্তু তিনি নিজে তার জানাযার নামায আদায় করেন নি।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস অনুসারে একদল অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। তারা বলেছেন, যিনাকারী ব্যক্তি নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য প্রদান করলে (স্বীকারোক্তি দিলে) তার উপর যিনার শাস্তি কার্যকর হবে। এই মত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাকও। অন্য আরেক দল অভিজ্ঞ আলিম বলেছেন, যিনার অপরাধ একবার স্বীকার করলেই শাস্তি কার্যকর হবে। এই মত প্রকাশ করেছেন ইমাম মালিক ও শাফিঈ। শেষোক্ত দুইজন ইমাম আবূ হুরাইরা ও যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ) -এর বর্ণিত হাদীসটি নিজেদের মতের অনুকূলে দলীল হিসাবে নিয়েছেন। হাদীসটি এইঃ “দুজন লোক নিজেদের মধ্যকার ঝগড়া সমাধানের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট তা উপস্থাপন করে। তাদের মধ্যে একজন বলে, হে আল্লাহর রাসূল! এই লোকটি স্ত্রীর সাথে আমার ছেলে যিনা করেছে…… (দীর্ঘ হাদীস)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে উনাইস। তার স্ত্রীর নিকট যাও। সে যিনার পাপকে স্বীকার করলে তবে তাকে রজম (পাথর মেরে হত্যা) কর”। এ হাদীসটিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে একথা বলেননি যে, সে চারবার স্বীকারোক্তি করলে তাকে রজম কর।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আসলাম বংশের একজন ব্যক্তির স্বীকারোক্তির ঘটনা এসেছে। তিনি যিনার কথা বললে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বারবার তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এভাবে লোকটি নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য দেয়। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তার মানসিক অবস্থা যাচাই করে জিজ্ঞেস করেন, সে পাগল কি না। সে না বললে তার বৈবাহিক অবস্থাও জানতে চান। লোকটি বিবাহিত হওয়ার কথা জানায়। এরপর তার বিষয়ে রায় দেওয়া হয়। বর্ণনায় আরও আছে, শাস্তির সময় সে পালাতে চাইলে তাকে আটক করা হয়। পরে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তার সম্পর্কে ভালো কথা বলেছেন, তবে নিজে তার জানাজার নামাজ পড়েননি। যিনার স্বীকারোক্তির এই ঘটনায় শুধু স্বীকারোক্তি নয়, ব্যক্তির মানসিক সক্ষমতা ও বৈবাহিক অবস্থা যাচাই করার ধাপও স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ব্যক্তির স্বীকারোক্তি চারবার হওয়ার আগে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বারবার মুখ ফিরিয়েছেন।
- রায়ের আগে তার মানসিক সুস্থতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে।
- তার বৈবাহিক অবস্থাও আলাদাভাবে যাচাই করা হয়েছে।
- ঘটনার পর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তার সম্পর্কে ভালো কথা বলেছেন।
