১৫/৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৩০ - আইনের চোখে ধনী-দরিদ্র সমান
হাদ এর আওতাধীন অপরাধের ক্ষেত্রে সুপারিশ করা নিষেধ
আইনের চোখে সবাই সমান: মাখযূমী নারীর চুরির হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৩০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৩০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ قُرَيْشًا، أَهَمَّهُمْ شَأْنُ الْمَرْأَةِ الْمَخْزُومِيَّةِ الَّتِي سَرَقَتْ فَقَالُوا مَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقَالُوا مَنْ يَجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلاَّ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ حِبُّ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ . فَكَلَّمَهُ أُسَامَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ " . ثُمَّ قَامَ فَاخْتَطَبَ فَقَالَ " إِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ وَايْمُ اللَّهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا " .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ مَسْعُودِ ابْنِ الْعَجْمَاءِ وَيُقَالُ مَسْعُودُ بْنُ الأَعْجَمِ وَابْنِ عُمَرَ وَجَابِرٍ. قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মাখযূম বংশের একজন মহিলার চুরির ঘটনা কুরাইশদেরকে চিন্তিত করে তুলে। তারা একে অপরের সাথে বলাবলি করল, এ ব্যাপারটি নিয়ে কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আলোচনা করতে পারে? তারা বলল, এ বিষয়ে তাঁর সাথে কথা বলার সাহস উসামা ইবনু যাইদ ছাড়া আর কারো নেই। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খুবই প্রিয়। উসামা (রাঃ) তাঁর সাথে কথা বললেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলার নির্ধারিত শাস্তিসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি শাস্তি প্রসঙ্গে তুমি সুপারিশ করছ?তারপর তিনি দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন এবং বলেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো একারণে ধ্বংস হয়েছে যে, তাদের মধ্যে কোন ধনী-মর্যাদাশালী লোক চুরি করলে তাকে তারা ছেড়ে দিত এবং তাদের মাঝে কোন দুর্বল প্রকৃতির লোক চুরি করলে তার উপর শাস্তি কার্যকর করত। আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদের মেয়ে ফাতিমাও যদি চুরি করত তবে আমি অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম।
মাসঊদ ইবনুল আজমাআ বা ইবনুল আজম, ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৩০-এর সারসংক্ষেপ
মাখযূম বংশের একজন নারীর চুরির ঘটনায় কুরাইশরা চিন্তিত হয়ে পড়ে। তারা শাস্তি থেকে তাকে রক্ষা করার জন্য রাসূলুল্লাহর (صلى الله عليه وسلم) প্রিয় উসামা ইবন যায়দ (রাঃ)-কে সুপারিশ করতে পাঠায়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রশ্ন করেন, আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তির বিষয়ে কি সুপারিশ করা হচ্ছে? এরপর তিনি ভাষণে আগের জাতিগুলোর ধ্বংসের একটি কারণ বলেন। তাদের সমাজে মর্যাদাবান ব্যক্তি চুরি করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হতো, কিন্তু দুর্বল ব্যক্তি একই অপরাধ করলে তার ওপর শাস্তি কার্যকর করা হতো। তিনি নিজের মেয়ে ফাতিমা (রাঃ)-এর উদাহরণ দিয়ে বিচারিক সমতার দৃঢ়তা প্রকাশ করেন। আইনের চোখে সবাই সমান—হাদিসটির মূল শিক্ষা এটিই। সামাজিক পরিচয়, পরিবার বা মর্যাদা অপরাধের বিচার বদলে দেওয়ার কারণ হতে পারে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মর্যাদাবান ব্যক্তির জন্য শাস্তি ঠেকাতে সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
- ধনী ও দুর্বল মানুষের জন্য আলাদা বিচার আগের জাতির ধ্বংসের কারণ হয়েছিল।
- ন্যায়বিচারে বংশ, সম্পর্ক ও সামাজিক মর্যাদা প্রভাব ফেলতে পারে না।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিজের পরিবারের ক্ষেত্রেও একই নীতির কথা বলেছেন।
