১৫/১২. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৩৯ - বাইআত, শাস্তি ও গুনাহের কাফফারা

হাদ্দ প্রতিষ্ঠিত হলে গুনাহ মাফ হয়ে যায়

বাইআতের অঙ্গীকার ও শাস্তি গুনাহের কাফফারা হওয়ার হাদিস

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৩৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ فِي مَجْلِسٍ فَقَالَ " تُبَايِعُونِي عَلَى أَنْ لاَ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا وَلاَ تَسْرِقُوا وَلاَ تَزْنُوا قَرَأَ عَلَيْهِمُ الآيَةَ فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ عَلَيْهِ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَسَتَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ فَهُوَ إِلَى اللَّهِ إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَجَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَخُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ. قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَقَالَ الشَّافِعِيُّ لَمْ أَسْمَعْ فِي هَذَا الْبَابِ أَنَّ الْحُدُودَ تَكُونُ كَفَّارَةً لأَهْلِهَا شَيْئًا أَحْسَنَ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ. قَالَ الشَّافِعِيُّ وَأُحِبُّ لِمَنْ أَصَابَ ذَنْبًا فَسَتَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ أَنْ يَسْتُرَ عَلَى نَفْسِهِ وَيَتُوبَ فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ رَبِّهِ . وَكَذَلِكَ رُوِيَ عَنْ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ أَنَّهُمَا أَمَرَا رَجُلاً أَنْ يَسْتُرَ عَلَى نَفْسِهِ.

'উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা নবী (ﷺ) এর সামনে কোন এক সমাবেশে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা এই কথার উপর আমার নিকট বাই’আত করঃ আল্লাহ তা‘আলার সাথে তোমরা কোন অংশীদার স্থাপন করবে না, চুরি করবে না এবং যিনা-ব্যভিচার করবেনা। তারপর তিনি বাই’আত বিষয়ক পূর্ণ আয়াত তাদেরকে তিলাওয়াত করে শুনালেন।অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের যে লোক এই বাই’আত পূর্ণ করবে, আল্লাহ তা‘আলার নিকট রয়েছে তার জন্য পুরস্কার। আর কোন মানুষ এর কোন একটি অপরাধে জড়িয়ে পড়লে এবং এর জন্য তাকে শাস্তিও প্রদান করা হলে তাতে তার গুণাহের কাফফারা হয়ে যাবে। আর কোন মানুষ এর কোন একটি অপকর্ম করে বসলে এবং আল্লাহ তা‘আলা সেটাকে লোকচক্ষুর আড়ালে রেখে দিলে তার প্রসঙ্গটি আল্লাহ তা‘আলার উপর ন্যস্ত। তাকে আল্লাহ তা‘আলা চাইলে শাস্তিও দিতে পারেন আবার মাফও করে দিতে পারেন।

আলী, জারীর ইবনু আবদুল্লাহ ও খুযাইমা ইবনু সাবিত (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, “হাদ্দ বাস্তবায়িত হলে তা অপরাধীর গুণাহের কাফফারাস্বরূপ” -আমি এ প্রসঙ্গে এটা হতে উত্তম হাদীস আর কখনো শুনিনি। তিনি আরো বলেন, কোন মানুষ গুণাহে লিপ্ত হলে এবং সেটাকে আল্লাহ তা‘আলা গোপন রাখলে আমি এই নীতি তার জন্য উত্তম মনে করি যে, অপরাধীও সেটাকে গোপন করে রাখবে এবং তার ও প্রভুর মধ্যকার বিষয়টি প্রসঙ্গে তাঁর নিকট তাওবা করতে থাকবে। আবূ বাকর এবং উমার (রাঃ) হতেও বর্ণিত আছে যে, একজন মানুষকে তারা দু’জনেই নিজের গুণাহের কথা গোপন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৩৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবিদের কাছ থেকে তিনটি বড় অপরাধ থেকে বিরত থাকার বাইআত নেন—আল্লাহর সঙ্গে শরিক না করা, চুরি না করা এবং যিনা না করা। এরপর তিনি বাইআত সম্পর্কিত পূর্ণ আয়াত পড়ে শোনান। যারা অঙ্গীকার পূরণ করবে, তাদের পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে। কেউ এসব অপরাধের একটিতে জড়িয়ে পড়ে এবং দুনিয়াতে তার শাস্তি কার্যকর হলে সেই শাস্তি তার জন্য কাফফারা হবে। আর কেউ অপরাধ করার পর আল্লাহ তার বিষয়টি মানুষের কাছ থেকে গোপন রাখলে তার বিচার আল্লাহর ইচ্ছার ওপর থাকে। আল্লাহ চাইলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন, আবার চাইলে ক্ষমা করতে পারেন। শাস্তি গুনাহের কাফফারা—এই অংশের পাশাপাশি হাদিসটি আল্লাহর ক্ষমা ও বিচারের অধিকারও স্পষ্ট করে। গোপন থাকা মানেই নিশ্চিত ক্ষমা—এমন দাবি এখানে করা হয়নি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • শিরক, চুরি ও যিনা থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল।
  • বাইআত পূরণকারীর পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে।
  • অপরাধের জন্য দুনিয়ায় শাস্তি হলে তা তার কাফফারা হবে।
  • গোপন অপরাধের চূড়ান্ত বিচার আল্লাহর ইচ্ছার ওপর ন্যস্ত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন