১৫/২৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৬২ - অপমানজনক সম্বোধন ও মাহরাম সম্পর্কের বিধান
কোন ব্যক্তি যদি অন্যকে বলে, হে মুখান্নাস (নপুংসক)
অপমানজনক কথা ও মাহরাম সম্পর্কের অপরাধ সম্পর্কে হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৬২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৬২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي حَبِيبَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «إِذَا قَالَ الرَّجُلُ لِلرَّجُلِ يَا يَهُودِيُّ فَاضْرِبُوهُ عِشْرِينَ وَإِذَا قَالَ يَا مُخَنَّثُ فَاضْرِبُوهُ عِشْرِينَ وَمَنْ وَقَعَ عَلَى ذَاتِ مَحْرَمٍ فَاقْتُلُوهُ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَصْحَابِنَا قَالُوا مَنْ أَتَى ذَاتَ مَحْرَمٍ وَهُوَ يَعْلَمُ فَعَلَيْهِ الْقَتْلُ . وَقَالَ أَحْمَدُ مَنْ تَزَوَّجَ أُمَّهُ قُتِلَ . وَقَالَ إِسْحَاقُ مَنْ وَقَعَ عَلَى ذَاتِ مَحْرَمٍ قُتِلَ .- وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ رَوَاهُ الْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ وَقُرَّةُ بْنُ إِيَاسٍ الْمُزَنِيُّ أَنَّ رَجُلاً تَزَوَّجَ امْرَأَةَ أَبِيهِ فَأَمَرَ النَّبِيُّ ﷺ بِقَتْلِهِ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে বলে, “হে ইয়াহুদী” তখন তাকে বিশটি চাবুক মার। যখন সে বলে, “হে নপুংসক” তখন তাকে বিশটি চাবুক মার। যে ব্যক্তি মাহরাম আত্মীয়ার সাথে যেনা করে তাকে হত্যা কর।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুটি আলাদা ধরনের অপরাধের কথা এসেছে। প্রথমটি হলো কাউকে “হে ইয়াহুদি” বা “হে নপুংসক” বলে অপমান করা। এর জন্য বিশটি চাবুকের কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো এমন নারী আত্মীয়ার সঙ্গে যেনা করা, যার সঙ্গে বিয়ে শরিয়তে নিষিদ্ধ। এ অপরাধের জন্য হাদিসে আরও কঠোর শাস্তির কথা এসেছে। বর্ণনাটির ভাষা দেখায় যে মানুষের সম্মান নষ্ট করা এবং নিষিদ্ধ আত্মীয়তার সীমা ভাঙা—দুটিকেই গুরুতর বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছে। তবে এগুলো ব্যক্তিগত রাগ, প্রতিশোধ বা কাউকে নিজে শাস্তি দেওয়ার অনুমতি নয়। ইসলামী স্কলারদের মতে, এ ধরনের দণ্ড বিচারিক প্রক্রিয়া, প্রমাণ ও বৈধ কর্তৃপক্ষের অধীন। হাদিস থেকে আমাদের দৈনন্দিন শিক্ষা হলো—কাউকে পরিচয়, শরীর বা যৌনতা নিয়ে অপমান করা যাবে না; আত্মীয়তার পবিত্র সীমা মানতে হবে; এবং অপরাধের বিচার নিজের হাতে নেওয়া যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষকে পরিচয় বা শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে অপমান করা গুরুতর অন্যায়।
- মাহরাম আত্মীয়তার সীমা ভাঙা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
- শাস্তির কথা ব্যক্তিগত প্রতিশোধের অনুমতি দেয় না।
- সম্মানজনক ভাষা ও পারিবারিক পবিত্রতা রক্ষা করা জরুরি।
