১৫/৩০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৬৩ - তাআযীরের শাস্তিতে দশ বেত্রাঘাতের সীমা
তা‘যীর প্রসঙ্গে
তাআযীরের শাস্তিতে দশ বেত্রাঘাতের সীমা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৬৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৬৩
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ نِيَارٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لاَ يُجْلَدُ فَوْقَ عَشْرِ جَلَدَاتٍ إِلاَّ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي التَّعْزِيرِ وَأَحْسَنُ شَيْءٍ رُوِيَ فِي التَّعْزِيرِ هَذَا الْحَدِيثُ . قَالَ وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ بُكَيْرٍ فَأَخْطَأَ فِيهِ وَقَالَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ وَهُوَ خَطَأٌ وَالصَّحِيحُ حَدِيثُ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ إِنَّمَا هُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ نِيَارٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ .
আবূ বুরদা ইবনু নিয়ার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলার নির্ধারিত হাদ্দের অন্তর্ভুক্ত কোন অন্যায় ছাড়া (অন্য অন্যায়ের শাস্তি হিসেবে) দশটির বেশি বেত্রাঘাত প্রদান করা যাবে না।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এ বিষয়ে শুধুমাত্র বুকাইর ইবনুল আশাজ্জ-এর হাদীসের মাধ্যমে জেনেছি। অভিজ্ঞ আলিমগণের মধ্যে তা’যীর বিষয়ে দ্বিমত আছে। উপরোক্ত হাদীসটি তা’যীর বিষয়ে বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম। হাদীস বুকাইরের সূত্রে ইবনু লাহীআ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এতে ভুলের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেছেন, আবদুর রাহমান ইবনু জাবির ইবনু আবদুল্লাহর সূত্রে, তিনি তার বাবার সূত্রে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তা ভুল। লাইস ইবনু সা’দের সনদে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ্। তা হলঃ আবদুর রাহমান ইবনু জাবির ইবনু আবদুল্লাহ-আবূ বুরদা ইবনু নিয়ার (রাঃ) এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি পরিষ্কার সীমা বলা হয়েছে। আল্লাহর নির্ধারিত হাদ্দের অন্তর্ভুক্ত অপরাধ ছাড়া অন্য কোনো অন্যায়ের জন্য দশটির বেশি বেত্রাঘাত দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ সব অপরাধকে একই মাত্রার শাস্তির আওতায় আনা যাবে না। হাদ্দ এবং অন্য ধরনের শাস্তির মধ্যে পার্থক্য রাখতে হবে। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো শাস্তিতে সীমা, নিয়ন্ত্রণ এবং ভারসাম্য। রাগ, ক্ষমতার অপব্যবহার বা ব্যক্তিগত প্রতিশোধের কারণে শাস্তি বাড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। এখানে “দশটির বেশি নয়” কথাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি অনির্ধারিত শাস্তিকে সীমাবদ্ধ করে। ইসলামী স্কলারদের মতে, এ ধরনের শাস্তি বিচারিক কর্তৃপক্ষের বিষয়; কোনো ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় কাউকে বেত্রাঘাত করতে পারে না। তাই হাদিসটি ন্যায়বিচারে সংযম, নির্ধারিত সীমা মানা এবং অপরাধ অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ার গুরুত্ব শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদ্দ ছাড়া অন্য শাস্তিতে নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করা যাবে না।
- শাস্তি রাগ বা ব্যক্তিগত প্রতিশোধের হাতিয়ার হতে পারে না।
- অপরাধ ও শাস্তির ধরন আলাদা করে বুঝতে হবে।
- বিচারিক শাস্তি বৈধ কর্তৃপক্ষের অধীন।
