১৬/১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৬৪ - শিকারি কুকুর, তীর ও পাত্র ব্যবহারের বিধান
কুকুরের কোন ধরণের শিকার খাওয়ার যোগ্য এবং কোন ধরণের শিকার খাওয়ার অযোগ্য
শিকারি কুকুর, তীর ও পাত্র ব্যবহারের ইসলামী বিধান
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৬৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৬৪
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ، وَالْحَجَّاجُ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ أَبِي مَالِكٍ، عَنْ عَائِذِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيَّ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا أَهْلُ صَيْدٍ . قَالَ «إِذَا أَرْسَلْتَ كَلْبَكَ وَذَكَرْتَ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ فَأَمْسَكَ عَلَيْكَ فَكُلْ» . قُلْتُ وَإِنْ قَتَلَ قَالَ «وَإِنْ قَتَلَ» . قُلْتُ إِنَّا أَهْلُ رَمْىٍ . قَالَ «مَا رَدَّتْ عَلَيْكَ قَوْسُكَ فَكُلْ» . قَالَ قُلْتُ إِنَّا أَهْلُ سَفَرٍ نَمُرُّ بِالْيَهُودِ وَالنَّصَارَى وَالْمَجُوسِ فَلاَ نَجِدُ غَيْرَ آنِيَتِهِمْ . قَالَ «فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا غَيْرَهَا فَاغْسِلُوهَا بِالْمَاءِ ثُمَّ كُلُوا فِيهَا وَاشْرَبُوا» .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَعَائِذُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ هُوَ أَبُو إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيُّ وَاسْمُ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ جُرْثُومٌ وَيُقَالُ جُرْثُمُ بْنُ نَاشِرٍ وَيُقَالُ ابْنُ قَيْسٍ .
আবূ সা‘লাবাহ আল-খুশানী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি আবূ সা’লাবা আল-খুশানী (রাঃ) -কে বলতে শুনেছেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমরা শিকারকারী সম্প্রদায়। তিনি বললেনঃ তুমি যদি আল্লাহ্ তা‘আলার নামে তোমার কুকুর ছেড়ে থাক এবং তোমার জন্য সে শিকার ধরে তাহলে তুমি তা খেতে পার। আমি বললাম, সে যদি তা মেরে ফেলে? তিনি বললেনঃ মেরে ফেললেও। আমি বললাম, আমরা তীর নিক্ষেপকারী সম্প্রদায়। তিনি বললেনঃ তোমার তীর তোমাকে যা ফেরত দেয় তা খাও।বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আমরা ভ্রমণে বের হয়ে থাকি; ইয়াহূদী, নাসারা ও মাজূসীদের এলাকা দিয়ে চলাচল করে থাকি। আমরা তাদের পাত্র ব্যতীত অন্য কোন পাত্র আমাদের ব্যবহারের জন্য জোগাড় করতে পারি না। তিনি বললেনঃ এদের পাত্র ব্যতীত তোমরা অন্য পাত্র জোগাড় করতে না পারলে এগুলোকে পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে নাও, তারপর এতে পানাহার কর।
আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। আইযুল্লাহর ডাকনাম আবূ ইদরীস আল-খাওলানী। আবূ সালাবা আল-খুশানী (রাঃ) -এর নাম জুরছূম, তাকে জুরছূম ইবনু নাশিদ মতান্তরে ইবনু কাইসও বলা হয়।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সফর ও শিকারের কয়েকটি বাস্তব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। প্রথমে প্রশিক্ষিত কুকুরের শিকার নিয়ে বলা হয়েছে—আল্লাহর নাম স্মরণ করে কুকুর ছাড়লে এবং সে শিকার ধরে আনলে তা খাওয়া যায়, এমনকি কুকুরটি শিকার মেরে ফেললেও। এরপর তীরের শিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে, তীর যে শিকার ফিরিয়ে আনে তা খাওয়া যাবে। হাদিসের শেষ অংশে সফরে ইহুদি, নাসারা বা মজুসীদের এলাকায় তাদের পাত্র ছাড়া অন্য পাত্র না পাওয়া গেলে কী করতে হবে, তা বলা হয়েছে। নির্দেশ হলো, পাত্রগুলো পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে তারপর তাতে খাওয়া ও পান করা। তাই হাদিসটির মূল বিষয় শিকারের হালাল পদ্ধতি, আল্লাহর নাম স্মরণ এবং খাবারের পাত্র পরিষ্কার রাখা। এখানে প্রয়োজনের সময় সহজ সমাধানও দেওয়া হয়েছে—পাত্র ফেলে না দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ব্যবহার করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিকারি কুকুর ছাড়ার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করতে হবে।
- তীরের মাধ্যমে বৈধভাবে ধরা শিকার খাওয়া যায়।
- অন্য পাত্র না পেলে ব্যবহৃত পাত্র পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুতে হবে।
- সফরেও খাবার ও পাত্রের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
