১৬/১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৬৫ - প্রশিক্ষিত কুকুর ও ধারালো অস্ত্রে শিকারের নিয়ম
কুকুরের কোন ধরণের শিকার খাওয়ার যোগ্য এবং কোন ধরণের শিকার খাওয়ার অযোগ্য
প্রশিক্ষিত কুকুর ও ধারালো অস্ত্রে শিকার করার বিধান
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৬৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৬৫
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نُرْسِلُ كِلاَبًا لَنَا مُعَلَّمَةً . قَالَ «كُلْ مَا أَمْسَكْنَ عَلَيْكَ» . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنْ قَتَلْنَ قَالَ «وَإِنْ قَتَلْنَ مَا لَمْ يَشْرَكْهَا كَلْبٌ غَيْرُهَا» . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَرْمِي بِالْمِعْرَاضِ . قَالَ «مَا خَزَقَ فَكُلْ وَمَا أَصَابَ بِعَرْضِهِ فَلاَ تَأْكُلْ» .حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، نَحْوَهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ وَسُئِلَ عَنِ الْمِعْرَاضِ، . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমরা আমাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর শিকারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেই। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এরা যা ধরে রাখে তা খাও। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! এরা যদি শিকার হত্যা করে ফেলে? তিনি বললেনঃ এরা হত্যা করলেও খেতে পার যদি এর সাথে অন্য কুকুর অংশ গ্রহণ না করে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমরা বর্শা (বা লাঠি) ছুড়ে থাকি। তিনি বলেনঃ তার তীক্ষ্ণ অগ্রভাগ শিকারকে জখম করলে তা খাও, কিন্তু তার পার্শ্বদেশের আঘাতে শিকার হলে তা খেও না।
উপরোক্ত হাদীসের মত মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহিয়া-মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ হতে, তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি মানসূর (রহঃ) হতে এই সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তবে এই বর্ণনায় আছেঃ “তাঁকে বর্শা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হল”। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শিকারি কুকুর এবং মি‘রাদ ধরনের নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র দিয়ে শিকারের নিয়ম বোঝানো হয়েছে। প্রশিক্ষিত কুকুর কোনো শিকার ধরে রাখলে তা খাওয়া যায়। কুকুরটি শিকারকে মেরে ফেললেও খাওয়া যাবে, তবে শর্ত হলো তার সঙ্গে অন্য কোনো কুকুর অংশ নেয়নি। কারণ অন্য কুকুর যুক্ত হলে কোন কুকুর শিকারটি ধরেছে বা মেরেছে, তা নিশ্চিত থাকে না। এরপর বর্শা বা লাঠির মতো অস্ত্রের আঘাতের ধরন আলাদা করা হয়েছে। অস্ত্রের তীক্ষ্ণ অগ্রভাগ শিকারকে বিদ্ধ বা জখম করলে তা খাওয়া যায়। কিন্তু অস্ত্রের পাশের ভোঁতা অংশের আঘাতে প্রাণী মারা গেলে তা খাওয়া যাবে না। তাই হাদিসটি শুধু শিকার ধরা নয়, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেয়। হালাল শিকারের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত কুকুর, অন্য কুকুরের অনুপস্থিতি এবং ধারালো আঘাত—এই শর্তগুলো গুরুত্ব পায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রশিক্ষিত কুকুরের ধরা শিকার খাওয়া যায়।
- অন্য কুকুর অংশ নিলে শিকারটির ব্যাপারে সন্দেহ তৈরি হয়।
- ধারালো অগ্রভাগে বিদ্ধ শিকার এবং ভোঁতা আঘাতে মৃত শিকার এক নয়।
- শিকার খাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ পরিষ্কার হওয়া দরকার।
