১৬/২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৬৬ - মজুসীদের কুকুর দিয়ে শিকার নিষিদ্ধ
মাজূসীদের (অগ্নি উপাসকদের) কুকুর দ্বারা শিকার
মজুসীদের কুকুর দিয়ে শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৬৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৬৬
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي بَزَّةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ الْيَشْكُرِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ نُهِينَا عَنْ صَيْدِ، كَلْبِ الْمَجُوسِ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يُرَخِّصُونَ فِي صَيْدِ كَلْبِ الْمَجُوسِ . وَالْقَاسِمُ بْنُ أَبِي بَزَّةَ هُوَ الْقَاسِمُ بْنُ نَافِعٍ الْمَكِّيُّ .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাদেরকে মাজূসীদের (অগ্নি উপাসকদের) কুকুর দ্বারা শিকার খেতে বারণ করা হয়েছে।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধু উপরোক্ত সূত্রেই আমরা এ হাদীসটি জেনেছি। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিম এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তাঁরা মাজূসীদের কুকুরের কৃত শিকার খাওয়ার অনুমতি দেননি। কাসিম ইবনু আবী বায্যা হলেন কাসিম ইবনু নাফি, মক্কার অধিবাসী।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই সংক্ষিপ্ত হাদিসের মূল বক্তব্য খুব সরাসরি—মজুসীদের কুকুর দিয়ে শিকার করতে নিষেধ করা হয়েছে। এখানে শিকারি কুকুরের সাধারণ বিধান নয়, বরং নির্দিষ্টভাবে মজুসীদের কুকুরের কথা বলা হয়েছে। তাই হাদিসটির শিক্ষা বুঝতে হলে এর সীমা ঠিক রাখতে হবে। এটি সব ধরনের কুকুরের শিকারকে নিষিদ্ধ করছে না; অন্য হাদিসে প্রশিক্ষিত কুকুরের শিকার সম্পর্কে আলাদা শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই বর্ণনায় নিষেধের বিষয় হলো মজুসীদের কুকুর দ্বারা শিকার। ফলে খাবার গ্রহণের আগে শিকার কীভাবে এবং কার ব্যবহৃত কুকুরের মাধ্যমে ধরা হয়েছে, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসটি সন্দেহমুক্ত ও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে খাবার বেছে নেওয়ার শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে এটি মনে করিয়ে দেয় যে শিকারের বিধানে কেবল প্রাণীটি ধরা পড়েছে কি না, সেটাই যথেষ্ট নয়; ব্যবহৃত মাধ্যম সম্পর্কেও নির্দেশ মানতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মজুসীদের কুকুর দিয়ে ধরা শিকার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে।
- এই নিষেধ সব প্রশিক্ষিত কুকুরের শিকারকে অন্তর্ভুক্ত করে না।
- শিকার কীভাবে ধরা হয়েছে, তা জানা খাবারের বিধানে গুরুত্বপূর্ণ।
- নির্দিষ্ট বর্ণনার সীমা অতিক্রম করে সাধারণ সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়।
