১৬/১১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৭৯ - দাঁতওয়ালা হিংস্র পশুর মাংস হারাম
থাবা ও শিকারী দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু ও নখরযুক্ত শিকারী পাখি খাওয়া নিষেধ
প্রত্যেক শিকারি দাঁতওয়ালা হিংস্র পশুর মাংস হারাম
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৭৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৭৯
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ حَرَّمَ كُلَّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেক শিকারী দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু (খাওয়া) অবৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীস অনুসারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর বেশিরভাগ অভিজ্ঞ সাহাবী ও তৎপরবর্তী আলিমগণ আমল করেছেন। এই কথা বলেছেন, (এসব পশুর গোশত হারাম) আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি সাধারণ ও স্পষ্ট বিধান দেওয়া হয়েছে—প্রত্যেক শিকারি দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু খাওয়া হারাম। “প্রত্যেক” শব্দটি এই শ্রেণির সব প্রাণীকে অন্তর্ভুক্ত করে, যখন তাদের পরিচয় শিকারি দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু হিসেবে হয়। তাই কোনো একটি পরিচিত প্রাণীর নাম না থাকলেও তার বৈশিষ্ট্য দিয়ে বিধান বোঝা যায়। এখানে পাখির কথা নেই; এই বর্ণনা বিশেষভাবে হিংস্র পশুর বিষয়ে। অন্য বর্ণনায় নখরওয়ালা শিকারি পাখির নিষেধ আলাদাভাবে এসেছে। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো খাদ্য বাছাইয়ে প্রাণীর শিকারি স্বভাব ও দাঁতের ব্যবহার লক্ষ্য করা। শুধু কোনো এলাকায় প্রাণীটির মাংস খাওয়া হয় কি না, তা ইসলামী বিধানের ভিত্তি নয়। মুসলিমের খাবারে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ এবং হালাল-হারামের সীমা মানা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রত্যেক শিকারি দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু খাওয়া হারাম।
- প্রাণীর নামের পাশাপাশি তার বৈশিষ্ট্য দিয়েও বিধান বোঝা যায়।
- এই বর্ণনা বিশেষভাবে হিংস্র পশুর বিষয়ে, পাখির বিষয়ে নয়।
- খাদ্য নির্বাচনে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
