১৭/২২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫২১ - কুরবানির দোয়া ও নবীজির আমল
(রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর উম্মাতের পক্ষে কুরবানী)
কুরবানি: পশু জবেহের সময় বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৫২১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৫২১
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنِ الْمُطَّلِبِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ شَهِدْتُ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ الأَضْحَى بِالْمُصَلَّى فَلَمَّا قَضَى خُطْبَتَهُ نَزَلَ عَنْ مِنْبَرِهِ فَأُتِيَ بِكَبْشٍ فَذَبَحَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِيَدِهِ وَقَالَ «بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ هَذَا عَنِّي وَعَمَّنْ لَمْ يُضَحِّ مِنْ أُمَّتِي " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ أَنْ يَقُولَ الرَّجُلُ إِذَا ذَبَحَ بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ الْمُبَارَكِ . وَالْمُطَّلِبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ يُقَالُ إِنَّهُ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ جَابِرٍ .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি মাঠে হাজির হলাম নবী (ﷺ) এর সাথে ঈদুল আযহার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে। তিনি খুতবা সমাপ্তির পর তাঁর মিম্বার হতে নামলেন। তারপর একটি ভেড়া আনা হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা নিজ হাতে যবেহ করলেন এবং বললেনঃ “আল্লাহ্ তা‘আলার নামে, আল্লাহ মহান, এই কুরবানী আমার পক্ষ হতে এবং আমার উম্মাতের যে সকল ব্যক্তিরা কুরবানী করতে পারেনি তাদের পক্ষ হতে।”
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদ সূত্রে গারীব বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অভিজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। তাঁরা মনে করেন যবাহের সময় “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” বলতে হবে। এই মত দিয়েছেন ইবনুল মুবারাকও। মুত্তালিবের পুত্র আবদুল্লাহ ইবনু হানতাব প্রসঙ্গে কথিত আছে যে, জাবির (রাঃ) -এর নিকট হতে তিনি কিছু শুনার সুযোগ লাভ করেননি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঈদুল আজহার দিনের একটি সরাসরি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং খুতবা শেষ করার পর মিম্বার থেকে নেমে আসেন। এরপর তাঁর কাছে একটি ভেড়া আনা হলে তিনি নিজ হাতে সেটি জবেহ করেন। কুরবানির সময় তিনি ‘বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার’ বলেন। অর্থাৎ আল্লাহর নাম নিয়ে এবং তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করে পশু জবেহ করেন। তিনি জানান, এই কুরবানি তাঁর নিজের পক্ষ থেকে এবং তাঁর উম্মতের সেই ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে, যারা কুরবানি করতে পারেনি। হাদিসটির মূল বিষয় হলো কুরবানির পশু জবেহের সময় আল্লাহর নাম নেওয়া, তাকবির বলা এবং ইবাদতটি আল্লাহর উদ্দেশ্যে করা। এতে নবীজির নিজের হাতে কুরবানি করার আমলও স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরবানির পশু আল্লাহর নাম নিয়ে জবেহ করতে হয়।
- জবেহের সময় ‘আল্লাহু আকবার’ বলে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা নবীজির আমল।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم নিজ হাতে কুরবানির পশু জবেহ করেছিলেন।
- কুরবানি আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি ইবাদত।
