১৮/৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫৩১ - শপথের সঙ্গে ইনশাআল্লাহ বলার বিধান
শপথে ইনশাআল্লাহ বলা
শপথে ইনশাআল্লাহ: আল্লাহর ইচ্ছার সঙ্গে কথা যুক্ত করা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৫৩১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৫৩১
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنِي أَبِي وَحَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَقَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَقَدِ اسْتَثْنَى فَلاَ حِنْثَ عَلَيْهِ».قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رَوَاهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَغَيْرُهُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ مَوْقُوفًا . وَهَكَذَا رُوِيَ عَنْ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضى الله عنهما مَوْقُوفًا . وَلاَ نَعْلَمُ أَحَدًا رَفَعَهُ غَيْرَ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ وَقَالَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَكَانَ أَيُّوبُ أَحْيَانًا يَرْفَعُهُ وَأَحْيَانًا لاَ يَرْفَعُهُ .وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ أَنَّ الاِسْتِثْنَاءَ إِذَا كَانَ مَوْصُولاً بِالْيَمِينِ فَلاَ حِنْثَ عَلَيْهِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالأَوْزَاعِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন লোক শপথ করার সময় ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চান) বললে শপথ ভঙ্গের অপরাধ তার উপর আসবে না।
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। ইবনু উমারের এ হাদীসটি উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার এবং আরো কয়েকজন বর্ণনাকারী নাফির সূত্রে ইবনু উমার হতে মাওকূ’ফভাবে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে সালিমও এটি মাওকূ’ফ হাদীস হিসাবে ইবনু উমার হতে বর্ণনা করেছেন। এটিকে আইয়্যূব সাখতিয়ানী ব্যতীত আর কেউ মারফূ’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম বলেন, আইয়্যূব এটাকে কখনো মারফূ ভাবে বর্ণনা করতেন, আবার কখনো মাওকূফ ভাবে বর্ণনা করতেন। এ হাদীস মোতাবিক নবী (ﷺ) এর বেশির ভাগ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। তাঁরা বলেছেন, শপথের সাথে ইনশাআল্লাহ শব্দটি যোগ করলে অর্থাৎ শপথ করার সাথে সাথে ইনশাআল্লাহ বললে শপথের বিপক্ষে কোন কিছু সংঘটিত হলে তাতে শপথ ভঙ্গ হবে না এবং কাফফারাও আদায় করতে হবে না। এই মত প্রদান করেছেন সুফিয়ান সাওরী, আওযাঈ, মালিক ইবনু আনাস, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শপথ করার সময় ‘ইনশাআল্লাহ’ বলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কেউ শপথ করে যদি ‘আল্লাহ চাইলে’ বলে, তাহলে সে তার কথার মধ্যে একটি ব্যতিক্রম যুক্ত করল। এর ফলে শপথ ভঙ্গের দায় তার ওপর আসবে না। পূর্ণ বর্ণনার শেষে আলেমদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘ইনশাআল্লাহ’ কথাটি শপথের সঙ্গে সংযুক্তভাবে বলতে হবে। অর্থাৎ অনেক পরে আলাদা করে বলার বিষয় এখানে বোঝানো হয়নি। হাদিসটি ভবিষ্যৎ কাজকে আল্লাহর ইচ্ছার সঙ্গে যুক্ত করার শিক্ষা দেয়। মানুষ পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজের চূড়ান্ত ফল আল্লাহর ইচ্ছার অধীন। তবে এই শিক্ষা অসততার জন্য নয়; বরং শপথের সময় সঠিকভাবে ব্যতিক্রম উল্লেখ করার বিষয়ে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শপথের সঙ্গে ‘ইনশাআল্লাহ’ বললে তা ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হয়।
- বর্ণনায় এমন অবস্থায় শপথ ভঙ্গের দায় না আসার কথা বলা হয়েছে।
- ‘ইনশাআল্লাহ’ শপথের কথার সঙ্গে সংযুক্তভাবে বলা গুরুত্বপূর্ণ।
- ভবিষ্যৎ কাজকে আল্লাহর ইচ্ছার সঙ্গে যুক্ত করার শিক্ষা পাওয়া যায়।
