১৮/৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫৩০ - শপথের চেয়ে ভালো কাজ দেখলে করণীয়
শপথ ভঙ্গের আগেই কাফফারা প্রদান করা।
শপথ ভঙ্গের কাফফারা দিয়ে ভালো কাজ করার নির্দেশ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৫৩০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৫৩০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ وَلْيَفْعَلْ».قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ أَنَّ الْكَفَّارَةَ قَبْلَ الْحِنْثِ تُجْزِئُ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يُكَفِّرُ إِلاَّ بَعْدَ الْحِنْثِ . قَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ إِنْ كَفَّرَ بَعْدَ الْحِنْثِ أَحَبُّ إِلَىَّ وَإِنْ كَفَّرَ قَبْلَ الْحِنْثِ أَجْزَأَهُ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন বিষয়ে কেউ শপথ করার পর তার বিপক্ষে কাজ করার মধ্যে মঙ্গল দেখতে পেলে সে যেন তার শপথ ভঙ্গের কাফফারা প্রদান করে এবং কল্যাণকর কাজটি সম্পাদন করে।
উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক নবী (ﷺ) এর বেশির ভাগ অভিজ্ঞ সাহাবী ও তৎপরবর্তী আলিমগণ আমল করেছেন। তাঁরা বলেছেন, শপথ ভঙ্গের আগে কাফফারা আদায় করা যায়। এই মত দিয়েছেন ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও। অপর কয়েকজন অভিজ্ঞ আলিম বলেছেন, শপথ ভঙ্গের আগে কাফফারা আদায় করবে না। সুফিয়ান সাওরী বলেছেন, আমি শপথ ভঙ্গের পর কাফফারা প্রদানকে উত্তম মনে করি। তবে কোন লোক শপথ ভঙ্গের আগেই অগ্রিম কাফফারা প্রদান করলে তাও যথেষ্ট হবে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শপথের কারণে ভালো কাজ ছেড়ে না দেওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। কেউ একটি বিষয়ে শপথ করার পর যদি বুঝতে পারে যে, এর বিপরীত কাজটি বেশি ভালো বা কল্যাণকর, তাহলে তাকে উত্তম কাজটি করতে বলা হয়েছে। তবে শপথকে একেবারে উপেক্ষা করতে বলা হয়নি। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم একই সঙ্গে শপথ ভঙ্গের কাফফারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই করণীয় হলো দুটি—কাফফারা দেওয়া এবং যে কাজটি বেশি ভালো তা করা। হাদিসটি মানুষের সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগ রাখে। ভুল বা কম কল্যাণকর কোনো সিদ্ধান্ত শুধু শপথের কারণে ধরে রাখা প্রয়োজন নয়। তবে কোন কাজ সত্যিই ভালো, তা সততার সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। বর্ণনার শেষে কাফফারা শপথ ভাঙার আগে বা পরে দেওয়া নিয়ে আলেমদের মতও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শপথের বিপরীতে বেশি ভালো কাজ থাকলে ভালো কাজটি বেছে নিতে হবে।
- শপথ ভাঙার ক্ষেত্রে কাফফারা দিতে বলা হয়েছে।
- ভুল সিদ্ধান্ত শুধু শপথের কারণে ধরে রাখা উচিত নয়।
- কাফফারার সময় নিয়ে বর্ণনায় আলেমদের মতভেদ উল্লেখ রয়েছে।
