১৮/৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫২৯ - নেতৃত্ব না চাওয়া ও উত্তম কাজ বেছে নেওয়া
শপথের বিপক্ষে কাজ করাকে কল্যাণকর মনে করলে
নেতৃত্বের দায়িত্ব ও শপথ: কল্যাণকর সিদ্ধান্তের শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৫২৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৫২৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ يُونُسَ، هُوَ ابْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ لاَ تَسْأَلِ الإِمَارَةَ فَإِنَّكَ إِنْ أَتَتْكَ عَنْ مَسْأَلَةٍ وُكِلْتَ إِلَيْهَا وَإِنْ أَتَتْكَ عَنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ أُعِنْتَ عَلَيْهَا وَإِذَا حَلَفْتَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَيْتَ غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَائْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَلْتُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ».وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَجَابِرٍ وَعَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ وَأَبِي الدَّرْدَاءِ وَأَنَسٍ وَعَائِشَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَأَبِي مُوسَى . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আবদুর রাহমান ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আবদুর রাহমান! শাসকের পদ চেয়ে নিও না। কেননা এ পদ চাওয়ার কারণে তোমার আয়ত্তে এলে তোমাকে এর যিম্মায় (সহায়হীনভাবে) ছেড়ে দেয়া হবে। এ পদটি যদি না চাইতেই তোমার আয়ত্তে আসে তবে তুমি (দায়িত্বভার বহনে) সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। তুমি কোন কাজের মানত করার পরে তার বিপরীত করার মধ্যে কল্যাণ দেখতে পেলে কল্যাণকর কাজটিই করবে এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা প্রদান করবে।
আলী, জাবির, আদী ইবনু হাতিম, আবুদ দারদা, আনাস, আইশা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূ হুরাইরা, উম্মু সালামা ও আবূ মূসা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আব্দুর রহমান ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা একসঙ্গে এসেছে। প্রথমে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আবদুর রহমানকে শাসকের পদ বা নেতৃত্বের দায়িত্ব চেয়ে নিতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন, চাওয়ার কারণে দায়িত্ব পেলে মানুষকে সেই দায়িত্বের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। আর না চাইতেই দায়িত্ব এলে তা পালনে সহায়তা পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় অংশে শপথের বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ কোনো কাজের শপথ করার পর যদি দেখে, তার বিপরীত কাজটি বেশি কল্যাণকর, তাহলে তাকে ভালো কাজটিই করতে হবে এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা দিতে হবে। তাই হাদিসটি ক্ষমতার লোভ থেকে দূরে থাকা এবং ভুল সিদ্ধান্ত আঁকড়ে না থাকার শিক্ষা দেয়। শুধু শপথ রক্ষার অজুহাতে স্পষ্ট কল্যাণকর কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথা এখানে বলা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেতৃত্ব বা শাসকের পদ চেয়ে নিতে নিষেধ করা হয়েছে।
- না চাইতে দায়িত্ব এলে তা পালনে সহায়তার কথা বলা হয়েছে।
- শপথের বিপরীতে ভালো কাজ দেখা গেলে ভালো কাজটি করতে হবে।
- শপথ ভাঙলে তার কাফফারা দিতে বলা হয়েছে।
