১৯/৪০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬০১ - লুটপাট নিষেধ ও মুসলিম চরিত্র
গনিমতের সম্পদ হতে বন্টনের আগে নেওয়া নিষেধ
ইসলামে লুটপাট নিষেধ: অন্যের সম্পদ রক্ষার কঠোর নির্দেশ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৬০১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৬০১
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَنِ انْتَهَبَ فَلَيْسَ مِنَّا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَنَسٍ.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বণ্টনের পূর্বে যে ব্যক্তি গনিমতের সম্পদ হতে কিছু গ্রহণ করে সে আমাদের দল ভুক্ত নয়।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা (রহঃ) হাসান সহীহ্ এবং আনাস (রাঃ)-এর রিওয়াত হিসাবে গারীব বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো লুটপাট নিষেধ। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্টভাবে বলেছেন, যে ব্যক্তি লুটপাট করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। অর্থাৎ ভয় দেখিয়ে, বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে বা শক্তি ব্যবহার করে অন্যের সম্পদ কেড়ে নেওয়া একজন মুসলিমের চরিত্র হতে পারে না। এখানে ‘আমাদের দলভুক্ত নয়’ কথাটি কাজটির ভয়াবহতা বোঝায়। মানুষ বিপদে পড়লে বা কোনো এলাকায় শৃঙ্খলা নষ্ট হলে তার সম্পদ অসহায় হয়ে পড়ে। এমন অবস্থাকে সুযোগ হিসেবে নেওয়ার বদলে একজন মুসলিমের দায়িত্ব হলো অন্যের জানমাল নিরাপদ রাখা। হাদিসটি কেবল যুদ্ধক্ষেত্র নয়, যেকোনো ধরনের প্রকাশ্য ছিনতাই, জবরদখল ও সম্পদ আত্মসাতের বিরুদ্ধে সতর্ক করে। তাই অস্থিরতা বা সুযোগের মুহূর্তেও হালাল-হারামের সীমা মনে রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শক্তি বা বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে অন্যের সম্পদ নেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
- একজন মুসলিমের আচরণে মানুষের জানমাল নিরাপদ থাকা উচিত।
- পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হলেও অন্যের অধিকার নষ্ট করা বৈধ হয়ে যায় না।
