১৯/৪৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬০৮ - নবীদের সম্পদ ও উত্তরাধিকার
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রেখে যাওয়া সম্পত্তি প্রসঙ্গে
নবীদের উত্তরাধিকার: সম্পদ নয়, দায়িত্ব চালু রাখার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৬০৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৬০৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ جَاءَتْ فَاطِمَةُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَقَالَتْ مَنْ يَرِثُكَ قَالَ أَهْلِي وَوَلَدِي. قَالَتْ فَمَا لِي لاَ أَرِثُ أَبِي فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " لاَ نُورَثُ " . وَلَكِنِّي أَعُولُ مَنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَعُولُهُ وَأُنْفِقُ عَلَى مَنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُنْفِقُ عَلَيْهِ.قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَطَلْحَةَ وَالزُّبَيْرِ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَسَعْدٍ وَعَائِشَةَ. وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ إِنَّمَا أَسْنَدَهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ وَعَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ. وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ لاَ أَعْلَمُ أَحَدًا رَوَاهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ إِلاَّ حَمَّادَ بْنَ سَلَمَةَ. وَرَوَى عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ نَحْوَ رِوَايَةِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট ফাতিমা (রাঃ) এসে বললেন, আপনার উত্তরাধিকারী কে হবে? তিনি বললেন, আমার স্ত্রী এবং সন্তানগণ। তিনি (ফাতিমা) বললেন, তাহলে আমার পিতার উত্তরাধিকারী আমি হব না কেন? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ “আমাদের (নাবীদের) কোন উত্তরাধিকারী হয় না। ” তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যাদের ভরণ-পোষণের যোগার করতেন আমিও তাদের ভরণ-পোষণের যোগার করে যাব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যাদের খরচপাতি বহন করতেন আমিও তাদের খরচপাতি বহন করতে থাকব।
উমার, তালহা, যুবাইর, আবদুর রাহমান ইবনু আওফ, সা’দ ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদ সূত্রে হাসান গারীব বলেছেন। এই হাদীস হাম্মাদ ইবনু সালামা ও আবদুল ওয়াহ্হাব ইবনু আতা উভয়ে মুহাম্মাদ ইবনু আমর হতে, তিনি আবূ সালামা হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রে মুসনাদরূপে বর্ণনা করেছেন। আমি এই হাদীস প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ বুখারীকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ হাদীস মুহাম্মাদ ইবনু আমর হতে, তিনি আবূ সালামা হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রে হাম্মাদ ইবনু সালামা ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফাতিমা (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)-এর কাছে তাঁর পিতার সম্পদে উত্তরাধিকারের বিষয়ে জানতে চান। আবু বকর (রাঃ) জানান, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে বলতে শুনেছেন যে নবীগণের সাধারণ উত্তরাধিকারী হয় না। তবে তিনি শুধু এই বক্তব্য বলেই থেমে যাননি। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যাদের ভরণ-পোষণ করতেন, আবু বকর (রাঃ) তাদের ভরণ-পোষণ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। যাদের খরচ রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বহন করতেন, তাদের খরচও তিনি বহন করতে থাকবেন বলে জানান। তাই হাদিসটির মূল শিক্ষা শুধু সম্পদের মালিকানা নয়, দায়িত্বের ধারাবাহিকতাও। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর রেখে যাওয়া সম্পদ সাধারণ ব্যক্তিগত মীরাসের নিয়মে বণ্টিত না হলেও তাঁর দেখাশোনায় থাকা মানুষের প্রয়োজন উপেক্ষা করা হয়নি। এখানে নবীগণের জন্য একটি বিশেষ বিধান বর্ণিত হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীগণের সম্পদের উত্তরাধিকার সাধারণ মানুষের সম্পদের মতো নয়।
- সম্পদের দাবি না মানলেও নির্ভরশীল মানুষের ভরণ-পোষণ বন্ধ করা হয়নি।
- নেতৃত্ব গ্রহণের সঙ্গে আগের কল্যাণমূলক দায়িত্বও চালিয়ে নেওয়া উচিত।
