২১/৩২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭১২ - শহীদের গুনাহ ও ঋণের দায়
ঋণগ্রস্ত অবস্থায় কেউ শহীদ হলে
শহীদের গুনাহ মাফ হলেও ঋণ কেন বাকি থাকে
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৭১২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৭১২
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يُحَدِّثُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَنَّهُ قَامَ فِيهِمْ فَذَكَرَ لَهُمْ أَنَّ الْجِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالإِيمَانَ بِاللَّهِ أَفْضَلُ الأَعْمَالِ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَيُكَفِّرُ عَنِّي خَطَايَاىَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " نَعَمْ إِنْ قُتِلْتَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَنْتَ صَابِرٌ مُحْتَسِبٌ مُقْبِلٌ غَيْرُ مُدْبِرٍ " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " كَيْفَ قُلْتَ " . قُلْتُ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَيُكَفِّرُ عَنِّي خَطَايَاىَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " نَعَمْ وَأَنْتَ صَابِرٌ مُحْتَسِبٌ مُقْبِلٌ غَيْرُ مُدْبِرٍ إِلاَّ الدَّيْنَ فَإِنَّ جِبْرِيلَ قَالَ لِي ذَلِكَ " .قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَمُحَمَّدِ بْنِ جَحْشٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ نَحْوَ هَذَا وَرَوَى يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ وَغَيْرُ وَاحِدٍ نَحْوَ هَذَا عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ .
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদা (রহঃ) হতে তার পিতা হতে বর্ণিতঃ
তিনি তাঁর পিতা (কাতাদা (রাঃ))-কে বর্ণনা করতে শুনেছেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক সময় তাঁদের মাঝে দাঁড়ালেন। তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে বললেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলার পথে জিহাদ এবং আল্লাহ্ তা‘আলার উপর ঈমান হল সবচেয়ে উত্তম কাজ। একজন লোক দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি মনে করেন, আমি আল্লাহ্ তা‘আলার পথে নিহত হলে তাতে আমার গুনাহসমূহ কি মাফ হয়ে যাবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, হ্যাঁ। আল্লাহ্ তা‘আলার পথে তুমি যদি এরূপভাবে নিহত হও যে, তুমি ধৈর্য ধারণকারী, সাওয়াবের আশাবাদী, অগ্রগামী হও এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শনকারী না হও।তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কিভাবে প্রশ্ন করেছিলে (তা আবার বল)? লোকটি বলল, আপনি কি মনে করেন, আল্লাহ্ তা‘আলার পথে আমি নিহত হলে কি তাতে আমার গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যাবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ, তোমার গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যাবে, যদি তুমি ধৈর্যশীল হও, সাওয়াবের আকাঙ্ক্ষী ও সৎ উদ্দেশ্য পোষণকারী হও, অগ্রগামী হও এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শনকারী না হও। কিন্তু ঋণের ক্ষমা হবে না, কেননা আমাকে জিবরীল এ কথা বলেছেন।
আবূ ঈসা বলেন, আনাস, মুহাম্মাদ ইবনু জাহ্শ ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। কয়েকজন বর্ণনাকারী সাঈদ আল-মাকবুরী হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে অনুরূপভাবে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী প্রমুখ-সাঈদ আল-মাকবুরী হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবী কাতাদা হতে, তিনি তাঁর পিতা আবূ কাতাদা হতে, তিনি নাবী (ﷺ)-এর সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এই বর্ণনাটি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে সাঈদ আল-মাকবুরীর বর্ণনার তুলনায় অনেক বেশি সহীহ্।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আল্লাহর পথে জিহাদ ও আল্লাহর প্রতি ঈমানকে উত্তম কাজ বলা হয়েছে। একজন ব্যক্তি জানতে চান, আল্লাহর পথে নিহত হলে তার গুনাহ মাফ হবে কি না। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم হ্যাঁ বলেন, তবে কয়েকটি অবস্থা উল্লেখ করেন: সে ধৈর্যশীল হবে, সওয়াবের আশা রাখবে, সৎ উদ্দেশ্যে সামনে এগোবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না। এরপর তিনি আবার প্রশ্নটি শুনে একই উত্তর দেন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম জানান—ঋণ মাফ হবে না। জিবরিল (আঃ) তাঁকে এ কথা জানিয়েছেন। হাদিসটি দেখায়, বড় ত্যাগও মানুষের আর্থিক দায়কে হালকা করে না। তাই ঋণকে ছোট মনে করা ঠিক নয়। একই সঙ্গে শাহাদাতের আলোচনা শুধু বাহ্যিক মৃত্যুর নয়; ধৈর্য, নিয়ত ও দৃঢ়তার কথাও বর্ণনায় স্পষ্টভাবে আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর পথে কাজের সঙ্গে ধৈর্য ও সওয়াবের আশা যুক্ত থাকা দরকার।
- পৃষ্ঠ প্রদর্শন না করে দৃঢ় থাকা বর্ণনায় উল্লেখ হয়েছে।
- শহীদের গুনাহ মাফের বর্ণনায় ঋণ ব্যতিক্রম।
- মানুষের আর্থিক হককে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
