২১/৩৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭১৯ - ফাই সম্পদ ও জনকল্যাণ
ফাই প্রসঙ্গে
ফাই সম্পদের ব্যবস্থাপনা: পরিবার ও জনস্বার্থের ভারসাম্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৭১৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৭১৯
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ كَانَتْ أَمْوَالُ بَنِي النَّضِيرِ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِمَّا لَمْ يُوجِفِ الْمُسْلِمُونَ عَلَيْهِ بِخَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ وَكَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ خَالِصًا وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَعْزِلُ نَفَقَةَ أَهْلِهِ سَنَةً ثُمَّ يَجْعَلُ مَا بَقِيَ فِي الْكُرَاعِ وَالسِّلاَحِ عُدَّةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَى سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ .
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ ফাই হিসাবে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে যেসব সম্পদ দিয়েছিলেন, তার মধ্যে নাযীর গোত্র হতে প্রাপ্ত সম্পদও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তা অর্জনের লক্ষ্যে মুসলমানরা না ঘোড়া দৌঁড়িয়েছে আর না উট হাঁকিয়েছে (বিনা যুদ্ধে অর্জিত)। বিশেষভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য এই সম্পদ নির্দিষ্ট ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই সম্পদ হতে তাঁর পরিবার-পরিজনের সাংবাৎসরিক ভরণ-পোষণের যোগাড় করতেন এবং বাকী সম্পদ আল্লাহ্ তা‘আলার পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে ঘোড়া ও যুদ্ধাস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্যে খরচ করতেন।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এই হাদীসটি সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা মা’মারের সূত্রে, তিনি ইবনু শিহাবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭১৯-এর সারসংক্ষেপ
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) জানান, বনী নযীরের সম্পদ যুদ্ধ ছাড়াই অর্জিত ফাই ছিল। মুসলমানরা তা পেতে ঘোড়া বা উট চালিয়ে যুদ্ধ করেনি। তাই সেই সম্পদ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ছিল। তিনি সেখান থেকে পরিবারের এক বছরের ভরণপোষণ আলাদা করে রাখতেন। এরপর যা বাকি থাকত, তা আল্লাহর পথে প্রয়োজনীয় ঘোড়া ও যুদ্ধাস্ত্র প্রস্তুতে ব্যয় করতেন। হাদিসটি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য দেখায়। পরিবারের প্রয়োজন উপেক্ষা করা হয়নি, আবার সব সম্পদ ব্যক্তিগত ভোগেও রাখা হয়নি। অবশিষ্ট অংশ বৃহত্তর দায়িত্বে ব্যয় হয়েছে। এই বর্ণনা বিশেষ ধরনের ফাই সম্পদ সম্পর্কে; সাধারণ আয়, যাকাত বা ব্যক্তিগত সম্পদের সব বিধান এর মধ্যে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো দায়িত্বশীল বণ্টন, প্রয়োজন নির্ধারণ ও জনকল্যাণে ব্যয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পরিবারের এক বছরের প্রয়োজন আগে নির্ধারণ করা হয়েছিল।
- অবশিষ্ট সম্পদ আল্লাহর পথে প্রস্তুতিতে ব্যয় করা হতো।
- বিশেষ সম্পদ ব্যক্তিগত ভোগের জন্য জমা রাখা হয়নি।
- ফাই, যাকাত ও সাধারণ ব্যক্তিগত সম্পদকে এক বিধান মনে করা ঠিক নয়।
