৬৪/১৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪০৩৩ - ফাই সম্পদ ও নবীদের উত্তরাধিকার
দুই ব্যক্তি রক্তপণের ব্যাপারে আলোচনা করার জন্য রাসূল (ﷺ)-এর বাণী নাযীর গোত্রের নিকট গমন এবং তাঁর সঙ্গে তাদের বিশ্বাসঘাতকতা বিষয়ক ঘটনা
قَالَ الزُّهْرِيُّ عَنْ عُرْوَةَ كَانَتْ عَلَى رَأْسِ سِتَّةِ أَشْهُرٍ مِنْ وَقْعَةِ بَدْرٍ قَبْلَ أُحُدٍ وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ﴾هُوَ الَّذِي أَخْرَجَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مِنْ دِيَارِهِمْ لِأَوَّلِ الْحَشْرِ مَا ظَنَنْتُمْ أَنْ يَخْرُجُوا﴿ وَجَعَلَهُ ابْنُ إِسْحَاقَ بَعْدَ بِئْرِ مَعُونَةَ وَأُحُدٍযুহরী (রহঃ) ‘উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বানু নাযীর যুদ্ধ ওহুদ যুদ্ধের আগে এবং বদর যুদ্ধের পরে ষষ্ঠ মাসের প্রারম্ভে সংঘটিত হয়েছিল। মহান আল্লাহর বাণী: “তিনিই কিতাবওয়ালাদের মধ্যে যারা কাফির তাদেরকে প্রথম সমবেতভাবে তাদের নিবাস থেকে বিতাড়িত করেছিলেন” (সূরা হাশর ৫৯/২)। বানু নাযীর যুদ্ধের এ ঘটনাকে ইবন ইসহাক (রহঃ) বিরে মাউনার ঘটনা এবং উহুদ যুদ্ধের পরবর্তী ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।"
ফাই সম্পদ ও ‘আমরা উত্তরাধিকার রেখে যাই না’ হাদিস
সহীহ বুখারী : ৪০৩৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪০৩৩
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ مَالِكُ بْنُ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ النَّصْرِيُّ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ دَعَاهُ إِذْ جَاءَهُ حَاجِبُهُ يَرْفَا فَقَالَ هَلْ لَكَ فِيْ عُثْمَانَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ وَالزُّبَيْرِ وَسَعْدٍ يَسْتَأْذِنُوْنَ فَقَالَ نَعَمْ فَأَدْخِلْهُمْ فَلَبِثَ قَلِيْلًا ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ هَلْ لَكَ فِيْ عَبَّاسٍ وَعَلِيٍّ يَسْتَأْذِنَانِ قَالَ نَعَمْ فَلَمَّا دَخَلَا قَالَ عَبَّاسٌ يَا أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ اقْضِ بَيْنِيْ وَبَيْنَ هَذَا وَهُمَا يَخْتَصِمَانِ فِي الَّذِيْ أَفَاءَ اللهُ عَلَى رَسُوْلِهِ ﷺ مِنْ بَنِي النَّضِيْرِ فَاسْتَبَّ عَلِيٌّ وَعَبَّاسٌ فَقَالَ الرَّهْطُ يَا أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ اقْضِ بَيْنَهُمَا وَأَرِحْ أَحَدَهُمَا مِنَ الْآخَرِ فَقَالَ عُمَرُ اتَّئِدُوْا أَنْشُدُكُمْ بِاللهِ الَّذِيْ بِإِذْنِهِ تَقُوْمُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ هَلْ تَعْلَمُوْنَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لَا نُوْرَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ يُرِيْدُ بِذَلِكَ نَفْسَهُ قَالُوْا قَدْ قَالَ ذَلِكَ فَأَقْبَلَ عُمَرُ عَلَى عَبَّاسٍ وَعَلِيٍّ فَقَالَ أَنْشُدُكُمَا بِاللهِ هَلْ تَعْلَمَانِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَدْ قَالَ ذَلِكَ قَالَا نَعَمْقَالَ فَإِنِّيْ أُحَدِّثُكُمْ عَنْ هَذَا الْأَمْرِ إِنَّ اللهَ سُبْحَانَهُ كَانَ خَصَّ رَسُوْلَهُ ﷺ فِيْ هَذَا الْفَيْءِ بِشَيْءٍ لَمْ يُعْطِهِ أَحَدًا غَيْرَهُ فَقَالَ جَلَّ ذِكْرُهُ {وَمَآ أَفَآءَ اللهُ عَلٰى رَسُوْلِهٰ مِنْهُمْ فَمَآ أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَّلَا رِكَابٍ﴿ إِلَى قَوْلِهِ ﴾قَدِيْرٌ﴿ فَكَانَتْ هَذِهِ خَالِصَةً لِرَسُوْلِ اللهِ ثُمَّ وَاللهِ مَا احْتَازَهَا دُوْنَكُمْ وَلَا اسْتَأْثَرَهَا عَلَيْكُمْ لَقَدْ أَعْطَاكُمُوْهَا وَقَسَمَهَا فِيْكُمْ حَتَّى بَقِيَ هَذَا الْمَالُ مِنْهَا فَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ نَفَقَةَ سَنَتِهِمْ مِنْ هَذَا الْمَالِ ثُمَّ يَأْخُذُ مَا بَقِيَ فَيَجْعَلُهُ مَجْعَلَ مَالِ اللهِ فَعَمِلَ ذَلِكَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ حَيَاتَهُ ثُمَّ تُوُفِّيَ النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ أَبُوْ بَكْرٍ فَأَنَا وَلِيُّ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَبَضَهُ أَبُوْ بَكْرٍ فَعَمِلَ فِيْهِ بِمَا عَمِلَ بِهِ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَأَنْتُمْ حِيْنَئِذٍ فَأَقْبَلَ عَلَى عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ وَقَالَ تَذْكُرَانِ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ فِيْهِ كَمَا تَقُوْلَانِ وَاللهُ يَعْلَمُ إِنَّهُ فِيْهِ لَصَادِقٌ بَارٌّ رَاشِدٌ تَابِعٌ لِلْحَقِّ ثُمَّ تَوَفَّى اللهُ أَبَا بَكْرٍ فَقُلْتُ أَنَا وَلِيُّ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَأَبِيْ بَكْرٍ فَقَبَضْتُهُ سَنَتَيْنِ مِنْ إِمَارَتِيْ أَعْمَلُ فِيْهِ بِمَا عَمِلَ فِيْهِ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَأَبُوْ بَكْرٍ وَاللهُ يَعْلَمُ أَنِّيْ فِيْهِ صَادِقٌ بَارٌّ رَاشِدٌ تَابِعٌ لِلْحَقِّ ثُمَّ جِئْتُمَانِيْ كِلَاكُمَا وَكَلِمَتُكُمَا وَاحِدَةٌ وَأَمْرُكُمَا جَمِيْعٌ فَجِئْتَنِيْ يَعْنِيْ عَبَّاسًا فَقُلْتُ لَكُمَا إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لَا نُوْرَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ فَلَمَّا بَدَا لِيْ أَنْ أَدْفَعَهُ إِلَيْكُمَا قُلْتُ إِنْ شِئْتُمَا دَفَعْتُهُ إِلَيْكُمَا عَلَى أَنَّ عَلَيْكُمَا عَهْدَ اللهِ وَمِيْثَاقَهُ لَتَعْمَلَانِ فِيْهِ بِمَا عَمِلَ فِيْهِ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَأَبُوْ بَكْرٍ وَمَا عَمِلْتُ فِيْهِ مُنْذُ وَلِيْتُ وَإِلَّا فَلَا تُكَلِّمَانِيْ فَقُلْتُمَا ادْفَعْهُ إِلَيْنَا بِذَلِكَ فَدَفَعْتُهُ إِلَيْكُمَا أَفَتَلْتَمِسَانِ مِنِّيْ قَضَاءً غَيْرَ ذَلِكَ فَوَاللهِ الَّذِيْ بِإِذْنِهِ تَقُوْمُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ لَا أَقْضِيْ فِيْهِ بِقَضَاءٍ غَيْرِ ذَلِكَ حَتَّى تَقُوْمَ السَّاعَةُ فَإِنْ عَجَزْتُمَا عَنْهُ فَادْفَعَا إِلَيَّ فَأَنَا أَكْفِيْكُمَاهُ
মালিক ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(একদা) ‘উমর ইব্নু খাত্তাব তাঁকে ডাকলেন। এ সময় তার দ্বাররক্ষী ইয়ারফা এসে বলল, ‘উসমান, ‘আবদুর রাহমান, যুবায়র এবং সা‘দ (রাঃ) আপনার নিকট আসার অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, হাঁ তাঁদেরকে আসতে বল। কিছুক্ষণ পরে এসে বলল, ‘আব্বাস এবং ‘আলী (রাঃ) আপনার নিকট অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, হাঁ। তাঁরা উভয়েই ভিতরে প্রবেশ করলেন।‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে, আমীরুল মু’মিনীন! আমার এবং তাঁর মাঝে (বিবাদের) মীমাংসা করে দিন। বনূ নাযীরের সম্পদ থেকে আল্লাহ্ তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে ফাই (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) হিসেবে যা দিয়েছিলেন তা নিয়ে তাঁদের উভয়ের মাঝে বিবাদ চলছিল। এ নিয়ে তাঁরা তর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন, (এ দেখে আগত) দলের সকলেই বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! তাঁদের মাঝে একটি মীমাংসা করে তাঁদের এ বিবাদ থেকে মুক্তি দিন।তখন ‘উমর (রাঃ) বললেন, তাড়াহুড়া করবেন না। আমি আপনাদেরকে আল্লাহ্র নামে শপথ দিয়ে বলছি, যাঁর আদেশে আসমান ও যমীন প্রতিষ্ঠিত আছে। আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিজের সম্বন্ধে বলেছেন, আমরা (নাবীগণ) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না। যা রেখে যাই তা সদাকাহ হিসেবেই গণ্য হয়। এর দ্বারা তিনি নিজের কথাই বললেন। উপস্থিত সকলেই বললেন, হাঁ, তিনি এ কথা বলেছেন।‘উমর (রাঃ) ‘আলী এবং ‘আব্বাসের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের উভয়কে আল্লাহ্র কসম দিয়ে বলছি, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যে এ কথা বলেছেন, আপনারা তা জানেন কি? তাঁরা উভয়েই বললেন, হাঁ, এরপর তিনি বললেন, এখন আমি আপনাদেরকে এ বিষয়ে আসল অবস্থা খুলে বলছি। ফাই এর কিছু অংশ আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর রাসূলের জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যা তিনি অন্য কাউকে দেননি।এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেনঃ “আল্লাহ্ ইয়াহূদীদের নিকট হতে তাঁর রাসূলকে যে ফাই দিয়েছেন, তার জন্য তোমরা অশ্ব কিংবা উষ্ট্র চালিয়ে যুদ্ধ করনি; আল্লাহ্ তো তাঁর রাসূলকে যার উপর ইচ্ছা তার উপর কর্তৃত্ব দান করেন; আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান”- (সূরা আন’আম ৬:৫৯)।অতএব এ ফাই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর জন্যই খাস ছিল। আল্লাহ্র কসম! এরপর তিনি তোমাদেরকে বাদ দিয়ে নিজের জন্য এ সম্পদকে সংরক্ষিতও রাখেননি এবং নিজের জন্য নির্ধারিতও করে যাননি। বরং এ অর্থকে তিনি তোমাদের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছেন। অবশেষে এ মাল উদ্বৃত্ত আছে। এ মাল থেকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর পরিবার পরিজনের এক বছরের খোরপোশ দিতেন। এর থেকে যা অবশিষ্ট থাকত তা তিনি আল্লাহ্র পথে খরচ করতে দিতেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর জীবদ্দশায় এরূপই করেছেন।নবী (ﷺ)-এর ওফাতের পর আবূ বকর (রাঃ) বললেন, এখন থেকে আমিই হলাম রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ওলী (প্রতিনিধি)। এরপর আবূ বকর (রাঃ) স্বীয় তত্ত্বাবধানে নিয়ে এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যে নীতি অনুসরণ করেছিলেন তিনিও সে নীতিই অনুসরণ করে চললেন। তিনি ‘আলী ও ‘আব্বাসের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, আজ আপনারা যা বলছেন এ বিষয়ে আপনারা আবূ বকরের সঙ্গেও এ ধরনেরই আলোচনা করেছিলেন। আল্লাহ্র কসম! তিনিই জানেন, এ বিষয়ে আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ এবং হাকের অনুসারী এক মহা ব্যক্তিত্ব।এরপর আবূ বকরের ইন্তিকাল হলে আমি বললাম, (আজ থেকে) আমিই হলাম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এবং আবূ বকরের ওলী (প্রতিনিধি)। এরপর এ সম্পদকে আমি আমার খিলাফাতের দুই বছরকাল আমার তত্ত্বাবধানে রাখি এবং এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও আবূ বকরের অনুসৃত নীতিই অনুসরণ করে চলছি। আল্লাহ্ তা‘আলাই ভাল জানেন, এ বিষয়ে নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ এবং হাকের একনিষ্ঠ অনুসারী। তা সত্ত্বেও পুনরায় আপনারা দু’জনই আমার নিকট এসেছেন। আমি আপনাদের উভয়কেই বলেছিলাম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আমরা (নাবীগণ) কাউকে উত্তরাধিকারী করি না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা হিসেবেই গণ্য হয়।এরপর এ সম্পদটি আপনাদের উভয়ের তত্ত্বাবধানে দেয়ার বিষয়টি যখন আমার নিকট স্পষ্ট হল তখন আমি বলেছিলাম, যদি আপনারা চান তাহলে একটি শর্তে তা আমি আপনাদের নিকট অর্পণ করব। শর্তটি হচ্ছে আপনারা আল্লাহ্র নির্দেশ ও তাঁর দেয়া ওয়াদা অনুযায়ী এমনভাবে কাজ করবেন যেভাবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও আবূ বাক্র করেছেন এবং আমার তত্ত্বাবধানে আসার পর আমি করেছি। অন্যথায় এ বিষয়ে আপনারা আমার সঙ্গে আর কোন আলোচনা করবেন না। তখন আপনারা বলেছিলেন, এ শর্তেই আপনি তা আমাদের নিকট অর্পণ করুন। আমি তা আপনাদের হাতে অর্পণ করেছি।এখন আপনারা আমার নিকট অন্য কোন ফায়সালা কামনা করেন কি? আমি আল্লাহ্র শপথ করে বলছি যাঁর আদেশে আসমান যমীনটিকে ক্বিয়ামাত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত আমি এর বাইরে অন্য কোন ফয়সালা দিতে পারব না। আপনারা যদি এর দায়িত্ব পালনের অক্ষম হয়ে থাকেন তাহলে আমার নিকট ফিরিয়ে দিন। আপনাদের এ দায়িত্ব পালনে আমিই যথেষ্ট।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪০৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে বনু নাদীরের ফাই সম্পদ নিয়ে আলী (রাঃ) ও আব্বাস (রাঃ)-এর বিষয়ে উমর (রাঃ)-এর মীমাংসা এসেছে। উমর (রাঃ) উপস্থিত সাহাবীদের আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করেন, তারা কি জানেন যে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, নবীগণ উত্তরাধিকার রেখে যান না; যা রেখে যান তা সদকা। সবাই তা স্বীকার করেন। এরপর তিনি বলেন, এই ফাই সম্পদ নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর জন্য নির্দিষ্ট ছিল, কিন্তু তিনি তা নিজের জন্য আটকে রাখেননি। তিনি পরিবারকে এক বছরের খরচ দিতেন, বাকিটা আল্লাহর পথে ব্যয় করতেন। আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) একই নীতি অনুসরণ করেন। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো আমানত, ন্যায্য মীমাংসা এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সম্পদের ব্যবস্থাপনা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর রেখে যাওয়া সম্পদ সদকা হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা এসেছে।
- ফাই সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নবী (صلى الله عليه وسلم), আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ)-এর নীতি উল্লেখ হয়েছে।
- বিবাদ মীমাংসায় সাক্ষী, শপথ ও জানা সত্য স্মরণ করানো হয়েছে।
- দায়িত্ব নিতে হলে আগের নীতি মেনে চলার শর্তের কথা এসেছে।
