৬৪/১৪. অধ্যায়ঃ
দুই ব্যক্তি রক্তপণের ব্যাপারে আলোচনা করার জন্য রসূল (ﷺ)-এর বাণী নাযীর গোত্রের নিকট গমন এবং তাঁর সঙ্গে তাদের বিশ্বাসঘাতকতা বিষয়ক ঘটনা
قَالَ الزُّهْرِيُّ عَنْ عُرْوَةَ كَانَتْ عَلَى رَأْسِ سِتَّةِ أَشْهُرٍ مِنْ وَقْعَةِ بَدْرٍ قَبْلَ أُحُدٍ وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ﴿هُوَ الَّذِي أَخْرَجَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مِنْ دِيَارِهِمْ لِأَوَّلِ الْحَشْرِ مَا ظَنَنْتُمْ أَنْ يَخْرُجُوا﴾ وَجَعَلَهُ ابْنُ إِسْحَاقَ بَعْدَ بِئْرِ مَعُونَةَ وَأُحُدٍযুহরী (রহ.) ‘উরওয়া (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বানু নাযীর যুদ্ধ ওহুদ যুদ্ধের আগে এবং বদর যুদ্ধের পরে ষষ্ঠ মাসের প্রারম্ভে সংঘটিত হয়েছিল। মহান আল্লাহর বাণী: “তিনিই কিতাবওয়ালাদের মধ্যে যারা কাফির তাদেরকে প্রথম সমবেতভাবে তাদের নিবাস থেকে বিতাড়িত করেছিলেন” (সূরা হাশর ৫৯/২)। বানু নাযীর যুদ্ধের এ ঘটনাকে ইবন ইসহাক (রহ.) বিরে মাউনার ঘটনা এবং উহুদ যুদ্ধের পরবর্তী ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।"
সহিহ বুখারী : ৪০৩৪
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪০৩৪
قَالَ فَحَدَّثْتُ هَذَا الْحَدِيْثَ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ فَقَالَ صَدَقَ مَالِكُ بْنُ أَوْسٍ أَنَا سَمِعْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَقُوْلُ أَرْسَلَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عُثْمَانَ إِلَى أَبِيْ بَكْرٍ يَسْأَلْنَهُ ثُمُنَهُنَّ مِمَّا أَفَاءَ اللهُ عَلَى رَسُوْلِهِ صلى الله عليه وسلم فَكُنْتُ أَنَا أَرُدُّهُنَّ فَقُلْتُ لَهُنَّ أَلَا تَتَّقِيْنَ اللهَ أَلَمْ تَعْلَمْنَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُوْلُ لَا نُوْرَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ يُرِيْدُ بِذَلِكَ نَفْسَهُ إِنَّمَا يَأْكُلُ آلُ مُحَمَّدٍ فِيْ هَذَا الْمَالِ فَانْتَهَى أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى مَا أَخْبَرَتْهُنَّ قَالَ فَكَانَتْ هَذِهِ الصَّدَقَةُ بِيَدِ عَلِيٍّ مَنَعَهَا عَلِيٌّ عَبَّاسًا فَغَلَبَهُ عَلَيْهَا ثُمَّ كَانَ بِيَدِ حَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ ثُمَّ بِيَدِ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ ثُمَّ بِيَدِ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ وَحَسَنِ بْنِ حَسَنٍ كِلَاهُمَا كَانَا يَتَدَاوَلَانِهَا ثُمَّ بِيَدِ زَيْدِ بْنِ حَسَنٍ وَهِيَ صَدَقَةُ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَقًّا
বর্ণনাকারী (যুহরী) হতে বর্ণিতঃ
আমি হাদীসটি উরওয়া ইবন যুবায়রের নিকট বর্ণনা করার পর তিনি (আমাকে) বললেন, মালিক ইবন আওস (রাঃ) ঠিকই বর্ণনা করেছেন। আমি নবী (ﷺ)–এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, (বানু নাদীর গোত্রের সম্পদ থেকে) ফায় হিসেবে আল্লাহ তাঁর রসূলকে যে সম্পদ দিয়েছেন তার অষ্টমাংশ আনার জন্য নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণীগণ উসমানকে আবু বকরের নিকট পাঠাতে চাইলে এই বলে আমি তাদেরকে বারণ করেছিলাম যে, আপনারা কি আল্লাহকে ভয় করেন না? আপনারা কি জানেন না যে নবী (ﷺ) বলতেন আমরা (নবী-রসূলগণ) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা হিসেবেই থেকে যায়। এ দ্বারা তিনি নিজের কথাই বুঝিয়েছেন। এ সম্পদ থেকে মুহাম্মদ (ﷺ)–বংশধরগণ খেতে পারবেন। (তারা এ সম্পদের মালিক হতে পারবেন না।) আমার এ কথা শুনে নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণীগণ বিরত হলেন।বর্ণনাকারী বলেন, অবশেষে সদকার এ মাল আলীর তত্ত্বাবধানে ছিল। তিনি আব্বাসকে তা দিতে অস্বীকার করেন এবং পরিশেষে তিনি আব্বাসের উপরে জয়ী হন। এরপর তা যথাক্রমে হাসান ইবন আলি এবং হুসাইন ইবন আলির হাতে ছিল। পুনরায় তা আলি ইবন হুসাইন এবং হাসান ইবন হাসানের হস্তগত হয়। তাঁরা উভয়ই পর্যায়ক্রমে তার দেখাশোনা করতেন। এরপর তা যায়দ ইবন হাসানের তত্ত্বাবধানে যায়। তা অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সদকা।
[৬৭২৭, ৬৭৩০; মুসলিম ৩২/১৫, হাঃ ১৭৫৭, আহমাদ ৩৩৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩৩,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৭)
