২৩/৪৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮৫৫ - রহমানের ইবাদত, খাবার ও সালামের শিক্ষা
খাবার খাওয়ানোর সাওয়াব
নিরাপদে জান্নাতে যাওয়ার আমল: ইবাদত, খাবার খাওয়ানো ও সালাম
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৮৫৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৮৫৫
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «اعْبُدُوا الرَّحْمَنَ وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ وَأَفْشُوا السَّلاَمَ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلاَمٍ» .قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা দয়াময় রাহমানের ইবাদাত কর, (মানুষকে) খাবার খাওয়াও এবং সালামের অধিক প্রচলন ঘটাও, তবেই নিরাপদে জান্নাতে যেতে পারবে।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় ইবাদত ও সামাজিক কল্যাণ। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم প্রথমে দয়াময় রহমানের ইবাদত করতে বলেছেন। অর্থাৎ আমলের ভিত্তি হলো আল্লাহর প্রতি আনুগত্য। এরপর মানুষকে খাবার খাওয়ানো এবং সালামের ব্যাপক প্রচলনের নির্দেশ দিয়েছেন। নিরাপদে জান্নাতে যাওয়ার আমল হিসেবে হাদিসে ব্যক্তিগত ইবাদত ও মানুষের প্রতি ভালো আচরণকে একসঙ্গে রাখা হয়েছে। শুধু মুখের সালাম নয়, মানুষের ক্ষুধা ও প্রয়োজনের দিকেও খেয়াল করতে বলা হয়েছে। আবার খাবার খাওয়ানো হলেও আল্লাহর ইবাদত বাদ দেওয়া যায় না। তিনটি নির্দেশ একসঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন শেখায়—আল্লাহর হক আদায়, মানুষের উপকার এবং শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা। জান্নাতে প্রবেশের সুসংবাদটি হাদিসের ভাষায় এসেছে। তবে কোনো আমলকে লোক দেখানো, অহংকার বা বিনিময়ের উদ্দেশ্যে না করে আন্তরিকভাবে করা দরকার। কারও সামর্থ্য কম হলে নিজের সাধ্য অনুযায়ী খাবার ভাগ করা ও সালাম দেওয়া সম্ভব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সব আমলের ভিত্তি দয়াময় আল্লাহর ইবাদত।
- মানুষকে খাবার খাওয়ানো সামাজিক দায়িত্ববোধ ও দয়ার প্রকাশ।
- সালামের প্রচলন শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব বাড়ায়।
- আল্লাহর হক ও মানুষের হক—দুটির প্রতিই যত্নবান হওয়া দরকার।
