২৪/২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮৬৩ - মধুর মদসহ সব নেশাজাত পানীয় হারাম
সকল প্রকারের নেশা সৃষ্টিকারী দ্রব্যই হারাম
নেশাজাত পানীয় হারাম: মধু দিয়ে বানানো মদের বিধান
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৮৬৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৮৬৩
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ سُئِلَ عَنِ الْبِتْعِ فَقَالَ " كُلُّ شَرَابٍ أَسْكَرَ فَهُوَ حَرَامٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মধু দ্বারা বানানো মদ সম্বন্ধে নবী (ﷺ)-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ সকল প্রকারের নেশা সৃষ্টিকারী পানীয়ই হারাম।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে মধু দিয়ে বানানো এক ধরনের মদ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি কোনো নির্দিষ্ট নাম বা উপাদানকে কেন্দ্র করে উত্তর দেননি; বরং একটি সাধারণ ও স্পষ্ট নীতি বলেছেন—যে পানীয় নেশা সৃষ্টি করে, তা হারাম। তাই মধু, ফল, শস্য বা অন্য কোনো উপাদান দিয়ে তৈরি হলেও পানীয়টি যদি নেশা আনে, হাদিসের ভাষায় সেটি বৈধ নয়। এখানে মূল বিষয় হলো নেশা সৃষ্টি করা। কোনো পানীয়কে কোমল, প্রাকৃতিক বা বিশেষ নামে ডাকা হলেও তার নেশাজাত বৈশিষ্ট্য বদলে যায় না। এই বর্ণনা মুসলিমকে পানীয় বেছে নেওয়ার সময় নাম, স্বাদ বা উৎসের চেয়ে তার প্রভাবের দিকে তাকাতে শেখায়। নেশা সৃষ্টি করে এমন পানীয় থেকে দূরে থাকাই হাদিসটির সরাসরি নির্দেশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মধু দিয়ে তৈরি হলেও নেশা সৃষ্টিকারী পানীয় হারাম।
- পানীয়ের উপাদান নয়, নেশা সৃষ্টি করাই বিধানের মূল মানদণ্ড।
- ভিন্ন নাম ব্যবহার করলে নেশাজাত পানীয়ের বিধান বদলায় না।
- পানীয় গ্রহণের আগে তার নেশাজাত প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক থাকা দরকার।
