২৪/৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮৭১ - নাবীয তৈরির সময় ও পান করার নিয়ম
(চামড়ার) মশকের মধ্যে নাবীয বানানো
মশকে নাবীয তৈরি: সকালে বানিয়ে রাতে, রাতে বানিয়ে ভোরে পান
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৮৭১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৮৭১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنَّا نَنْبِذُ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي سِقَاءٍ يُوكَأُ فِي أَعْلاَهُ لَهُ عَزْلاَءُ نَنْبِذُهُ غُدْوَةً وَيَشْرَبُهُ عِشَاءً وَنَنْبِذُهُ عِشَاءً وَيَشْرَبُهُ غُدْوَةً. قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ عَنْ عَائِشَةَ أَيْضًا.
আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা মশকের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য নাবীয (খেজুরের শরবত) বানাতাম। এর উপরিভাগে যে ছিদ্র ছিল দড়ি দ্বারা তা বেঁধে দেওয়া হত। আমরা সকালে তাঁর জন্য নাবীয বানাতাম। তিনি রাতে তা পান করতেন। আবার তাঁর জন্য আমরা রাতে নাবীয বানাতাম। তিনি ভোরে তা পান করতেন।
জাবির, আবূ সাঈদ ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা (রহঃ) হাসান গারীব বলেছেন। আইশা হতে ইউনুসের হাদীস হিসেবে এই সূত্র ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে জানতে পারিনি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮৭১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর জন্য নাবীয তৈরির একটি সরল পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। তারা মশকের মধ্যে নাবীয বানাতেন। মশকের ওপরের ছিদ্র দড়ি দিয়ে বেঁধে দেওয়া হতো। সকালে নাবীয তৈরি করলে নবী (صلى الله عليه وسلم) রাতে তা পান করতেন। আবার রাতে তৈরি করলে তিনি ভোরে পান করতেন। বর্ণনায় দীর্ঘ সময় রেখে দেওয়া, নেশা তৈরি হওয়া বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ার কথা নেই। তাই হাদিসটির মূল তথ্য হলো পাত্র, প্রস্তুতির সময় এবং পান করার সময়ের কাছাকাছি ব্যবধান। নাবীয এখানে খেজুরের শরবত হিসেবে উল্লেখিত। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, পানীয়টি তাজা অবস্থায় প্রস্তুত করে স্বল্প সময়ের মধ্যে পান করা হতো এবং মশক ভালোভাবে বেঁধে রাখা হতো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর জন্য মশকে নাবীয তৈরি করা হতো।
- মশকের ওপরের ছিদ্র দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হতো।
- সকালের তৈরি নাবীয রাতে এবং রাতের তৈরি নাবীয ভোরে পান করা হতো।
- বর্ণনায় নাবীয তাজা ও স্বল্প সময়ের মধ্যে পান করার চিত্র পাওয়া যায়।
