২৪/১৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮৮৬ - দুইবার শ্বাস নিয়ে পানি পান
দুই নিঃশ্বাসে পান করা
দুইবার শ্বাস নিয়ে পানি পান: নববী আমল
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৮৮৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৮৮৬
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ رِشْدِينَ بْنِ كُرَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ إِذَا شَرِبَ تَنَفَّسَ مَرَّتَيْنِ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ رِشْدِينَ بْنِ كُرَيْبٍ . قَالَ وَسَأَلْتُ أَبَا مُحَمَّدٍ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ رِشْدِينَ بْنِ كُرَيْبٍ قُلْتُ هُوَ أَقْوَى أَوْ مُحَمَّدُ بْنُ كُرَيْبٍ فَقَالَ مَا أَقْرَبَهُمَا وَرِشْدِينُ بْنُ كُرَيْبٍ أَرْجَحُهُمَا عِنْدِي . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَنْ هَذَا فَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ كُرَيْبٍ أَرْجَحُ مِنْ رِشْدِينَ بْنِ كُرَيْبٍ . وَالْقَوْلُ عِنْدِي مَا قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ رِشْدِينُ بْنُ كُرَيْبٍ أَرْجَحُ وَأَكْبَرُ وَقَدْ أَدْرَكَ ابْنَ عَبَّاسٍ وَرَآهُ وَهُمَا أَخَوَانِ وَعِنْدَهُمَا مَنَاكِيرُ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন পান করতেন তখন দুইবার নিঃশ্বাস নিতেন।
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু রিশদীন ইবনু কুরাইবের সূত্রেই এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। তিনি আরও বলেছেন, আমি আবূ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমানের নিকট রিশদীন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম– রাবী হিসেবে রিশদীন ও মুহাম্মাদ ইবনু কুরাইবের মধ্যে কে বেশী শক্তিশালী? তিনি বললেন, এরা খুব কাছাকাছি, তবে আমার মতে রিশদীন অগ্রগণ্য। তিনি আরও বলেছেন, আমি এ প্রসঙ্গে মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈলকে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, রিশদ্বীনের তুলনায় মুহাম্মদ অগ্রগণ্য। আবূ মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমানের মত আমারও অভিমত এই যে, তাদের উভয়ের মধ্যে রিশদীন বেশী অগ্রগণ্য ও প্রকৃষ্টতর। তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)–এর দেখা পেয়েছেন। তারা উভয়ে সহোদর ভাই এবং তাদের অনেক মুনকার রিওয়ায়াতও আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم পান করার সময় দুইবার নিঃশ্বাস নিতেন। অর্থাৎ তিনি একটানা পান না করে বিরতি নিতেন। হাদিসটির মূল বার্তা খুব সংক্ষিপ্ত এবং নির্দিষ্ট। এখানে বিসমিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ বা পাত্রের ভেতর শ্বাস ফেলার আলাদা নির্দেশ বলা হয়নি; তাই ব্যাখ্যাও এই সীমার মধ্যে থাকা উচিত। বর্ণনার শেষে সনদ নিয়ে আলোচনা এসেছে এবং হাদিসটিকে গরিব বলা হয়েছে। পানি পানের সুন্নাহ নিয়ে যারা জানতে চান, তারা এই বর্ণনাকে দুইবার বিরতি নিয়ে পান করার একটি বর্ণনা হিসেবে দেখবেন। একই বিষয়ের অন্য হাদিসে তিনবারে পান করার কথাও রয়েছে। ফলে পাঠকের উচিত বর্ণনাটিকে তার নিজস্ব ভাষায় বোঝা এবং অতিরিক্ত নিশ্চয়তা বা দাবি না করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এই বর্ণনায় দুইবার নিঃশ্বাস নিয়ে পান করার কথা এসেছে।
- একটানা পান না করে বিরতি নেওয়ার আমল বোঝা যায়।
- বর্ণনার সনদসংক্রান্ত মন্তব্যও খেয়াল রাখা দরকার।
