২/২৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮৯ - আযানের সত্য স্বপ্ন ও বিলাল রাঃ
আযানের প্রবর্তন
আযানের সূচনা: সত্য স্বপ্ন ও বিলাল রাঃ-এর আযান
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৮৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৮৯
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأُمَوِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ لَمَّا أَصْبَحْنَا أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَأَخْبَرْتُهُ بِالرُّؤْيَا فَقَالَ " إِنَّ هَذِهِ لَرُؤْيَا حَقٍّ فَقُمْ مَعَ بِلاَلٍ فَإِنَّهُ أَنْدَى وَأَمَدُّ صَوْتًا مِنْكَ فَأَلْقِ عَلَيْهِ مَا قِيلَ لَكَ وَلْيُنَادِ بِذَلِكَ» . قَالَ فَلَمَّا سَمِعَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ نِدَاءَ بِلاَلٍ بِالصَّلاَةِ خَرَجَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ يَجُرُّ إِزَارَهُ وَهُوَ يَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَقَدْ رَأَيْتُ مِثْلَ الَّذِي قَالَ . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " فَلِلَّهِ الْحَمْدُ فَذَلِكَ أَثْبَتُ» .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ أَتَمَّ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ وَأَطْوَلَ وَذَكَرَ فِيهِ قِصَّةَ الأَذَانِ مَثْنَى مَثْنَى وَالإِقَامَةِ مَرَّةً مَرَّةً . وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ هُوَ ابْنُ عَبْدِ رَبِّهِ وَيُقَالُ ابْنُ عَبْدِ رَبٍّ وَلاَ نَعْرِفُ لَهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ شَيْئًا يَصِحُّ إِلاَّ هَذَا الْحَدِيثَ الْوَاحِدَ فِي الأَذَانِ . وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ الْمَازِنِيُّ لَهُ أَحَادِيثُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ وَهُوَ عَمُّ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ .
মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ (রাঃ) হতে তাঁর পিতার সূত্রে হতে বর্ণিতঃ
তিনি (যাইদ) বলেন, যখন সকাল হল, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এলাম। তাঁকে (আমার) স্বপ্নের কথা বললাম। তিনি বললেনঃ “এটা নিশ্চয়ই বাস্তব (সত্য) স্বপ্ন। তুমি বিলালের সাথে যাও, কেননা তাঁর কণ্ঠস্বর তোমার চেয়ে উঁচু এবং লম্বা। তাঁকে বলে দাও যা তোমাকে বলা হয়েছে এবং এগুলো দিয়ে সে আযান দেবে।”যাইদ (রাঃ) বলেন, ‘উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) যখন নামাযের জন্য বিলালের আযান শুনতে পেলেন, তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উদ্দেশ্যে বের হলেন। তিনি নিজের চাদর টানতে টানতে এবং এই বলতে বলতে আসলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য সহযোগে পাঠিয়েছেন! বিলাল যেমন বলেছে আমি তেমনই স্বপ্নে দেখেছি।’ রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এটা আরো প্রবল হল।
এ অনুচ্ছেদে ইবনু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণনাকৃত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ‘আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। অপর এক সূত্রে এ হাদীসটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা হয়েছে এবং তাতে আযানের শব্দ দুই দুই বার এবং ইকামাতের শব্দ এক একবার উল্লেখ রয়েছে। এই হাদীসটি ছাড়া আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ ইবনু ‘আবদি রাব (রাঃ) হতে আর কোন সহীহ হাদীস বর্ণনা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আব্বাদ ইবনু তামীমের চাচা আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ ইবনু আসিম হতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আযানের সূচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এসেছে। জাইদ (রাঃ) তাঁর স্বপ্ন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জানালে তিনি বলেন, এটি সত্য স্বপ্ন। এরপর তাঁকে বিলাল (রাঃ)-এর কাছে যেতে বলা হয়, কারণ বিলাল (রাঃ)-এর কণ্ঠস্বর তাঁর চেয়ে উঁচু ও দীর্ঘ ছিল। স্বপ্নে যা শেখানো হয়েছিল, তা বিলাল (রাঃ)-কে জানাতে বলা হয়, যাতে তিনি তা দিয়ে আযান দেন। পরে উমর (রাঃ)ও জানান, তিনি একই রকম স্বপ্ন দেখেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং বিষয়টি আরও দৃঢ় হলো বলে জানান। এখানে মূল বিষয় আযানের প্রবর্তন, সত্য স্বপ্ন এবং নামাজের ডাকের জন্য উপযুক্ত কণ্ঠের ব্যবহার। ব্যাখ্যায় এর বাইরে কোনো অতিরিক্ত ঘটনা যোগ করা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আযানের সূচনায় সত্য স্বপ্নের বর্ণনা এসেছে।
- বিলাল (রাঃ)-এর উঁচু ও দীর্ঘ কণ্ঠ আযানের জন্য নির্বাচন করা হয়।
- উমর (রাঃ)-এর একই স্বপ্ন বিষয়টিকে আরও দৃঢ় করে।
- নামাজের ডাকের কাজে যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
