২/২৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮৮ - অজুহাত ছাড়া নামাজ জমা করার সতর্কতা
মুকিম অবস্থায় দুই ওয়াক্তের নামাজ এক সাথে আদায় করা
অজুহাত ছাড়া দুই নামাজ একত্রে পড়া: সতর্কতামূলক হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৮৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৮৮
حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَنَشٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «مَنْ جَمَعَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ فَقَدْ أَتَى بَابًا مِنْ أَبْوَابِ الْكَبَائِرِ» .قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَنَشٌ هَذَا هُوَ أَبُو عَلِيٍّ الرَّحَبِيُّ وَهُوَ حُسَيْنُ بْنُ قَيْسٍ وَهُوَ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ ضَعَّفَهُ أَحْمَدُ وَغَيْرُهُ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ لاَ يَجْمَعَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ إِلاَّ فِي السَّفَرِ أَوْ بِعَرَفَةَ . وَرَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ التَّابِعِينَ فِي الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ لِلْمَرِيضِ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ يَجْمَعُ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ فِي الْمَطَرِ وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَلَمْ يَرَ الشَّافِعِيُّ لِلْمَرِيضِ أَنْ يَجْمَعَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ কোন অজুহাত ছাড়াই যে ব্যক্তি দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করে সে কাবীরা গুনাহের স্তরসমূহের মধ্যে একটি স্তরে পৌঁছে যায়।
আবূ ‘ঈসা বলেন: হাদীস বিশারদদের বিচারে হানাশ, উপনাম আবূ ‘আলী আল-রাহবী, নাম হুসাইন ইবনু কাইস একজন দুর্বল রাবী। ইমাম আহমাদ ও অন্যরা তাকে দুর্বল মনে করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে সফর ও ‘আরাফাতের ময়দান ছাড়া দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করা যাবে না। কিছু তাবিঈ রুগ্ন ব্যক্তিকে দুই ওয়াক্তের নামায একত্র করার অনুমতি দিয়েছেন। আহমাদ ও ইসহাক এ মত গ্রহণ করেছেন। কিছু বিশেষজ্ঞ বৃষ্টির কারণে দুই নামায একত্রে আদায় করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন। শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাক ও অনুরূপ কথা বলেছেন। কিন্তু শাফিঈ রুগ্ন ব্যক্তিকে দুই নামায একত্রে আদায়ের অনুমতি দেননি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, কোনো অজুহাত ছাড়াই যে ব্যক্তি দুই ওয়াক্তের নামাজ একত্রে আদায় করে, সে কবীরা গুনাহের স্তরসমূহের একটি স্তরে পৌঁছে যায়। এখানে মূল বিষয় হলো অজুহাত ছাড়া জমা নামাজের ব্যাপারে সতর্কতা। একই বর্ণনার শেষে রাবী সম্পর্কে দুর্বলতার কথাও এসেছে, তাই বিষয়টি বুঝতে হলে হাদিসের পুরো পাঠ সতর্কভাবে দেখা দরকার। তবে বর্ণনার শিক্ষামূলক দিক হলো—নামাজের সময়কে হালকা করে দেখা ঠিক নয়। ১৮৭ নম্বর বর্ণনায় সহজতার কথা এসেছে, আর এখানে অজুহাত ছাড়া একত্র করার সতর্কতা এসেছে। তাই এই দুই বিষয়কে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। সফর, অসুস্থতা, বৃষ্টি বা প্রয়োজনের মতো বিষয়ে আলেমদের আলোচনা আছে; কিন্তু অকারণে নামাজ জমা করা অভ্যাসে পরিণত করা নিরাপদ নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অজুহাত ছাড়া দুই ওয়াক্ত একত্রে পড়ার বিষয়ে সতর্কতা এসেছে।
- নামাজের নির্ধারিত সময়কে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
- সহজতার বর্ণনা আর গাফলতির অজুহাত এক নয়।
- হাদিসের সনদ ও ব্যাখ্যার দিকও সতর্কভাবে দেখা উচিত।
