২৫/১৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯১৮ - ইয়াতীমের তত্ত্বাবধায়ক ও নবীজির নৈকট্য
ইয়াতীমের প্রতি দয়া প্রদর্শন এবং তার লালন-পালন
ইয়াতীমের তত্ত্বাবধানকারী জান্নাতে নবীজির কাছাকাছি
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৯১৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৯১৮
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِمْرَانَ أَبُو الْقَاسِمِ الْمَكِّيُّ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيمِ فِي الْجَنَّةِ كَهَاتَيْنِ " . وَأَشَارَ بِأُصْبُعَيْهِ يَعْنِي السَّبَّابَةَ وَالْوُسْطَى . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি ও ইয়াতীমের তত্ত্বাবধানকারী এই দুই আঙ্গুলের অনুরূপ একসাথে জান্নাতে বসবাস করব। এই কথা বলে তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে দেখান।
আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯১৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইয়াতীমের তত্ত্বাবধানকারীর মর্যাদা খুব সুন্দরভাবে বোঝানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তিনি এবং ইয়াতীমের দেখাশোনাকারী জান্নাতে পাশাপাশি থাকবেন। এরপর তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল দেখিয়ে নৈকট্য বোঝান। হাদিসের মূল শব্দ তত্ত্বাবধানকারী—অর্থাৎ যে ইয়াতীমের দায়িত্ব নেয়, প্রয়োজন দেখে এবং তাকে অবহেলায় ফেলে রাখে না। এখানে শুধু অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়নি; নিয়মিত যত্ন ও দায়িত্বের ধারণা রয়েছে। আঙুলের ইশারা এই পুরস্কারের ঘনিষ্ঠতা সহজভাবে মনে গেঁথে দেয়। ইয়াতীমের পাশে থাকা তাই সাধারণ সামাজিক সহায়তার চেয়ে বড় মর্যাদার আমল। যে ব্যক্তি এই দায়িত্ব নেয়, তার জন্য জান্নাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নৈকট্যের সুসংবাদ এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইয়াতীমের তত্ত্বাবধান বড় মর্যাদার নেক কাজ।
- ইয়াতীমের দায়িত্ব নেওয়া নিয়মিত যত্ন ও দেখাশোনার বিষয়।
- তত্ত্বাবধানকারীর জন্য জান্নাতে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নৈকট্যের সুসংবাদ রয়েছে।
- তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলের ইশারায় সেই নৈকট্য বোঝানো হয়েছে।
