২৫/৪৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯৬৭ - মেহমানদারি ও উত্তম কথা
মেহমানদারী ও এর সময়সীমা
মেহমানদারি ও উত্তম কথা: ঈমানের সুন্দর শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৯৬৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৯৬৭
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْعَدَوِيِّ، أَنَّهُ قَالَ أَبْصَرَتْ عَيْنَاىَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَسَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ حِينَ تَكَلَّمَ بِهِ قَالَ «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ جَائِزَتَهُ». قَالُوا وَمَا جَائِزَتُهُ قَالَ «يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ وَالضِّيَافَةُ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ وَمَا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَسْكُتْ». قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আবূ শুরাইহ্ আল ‘আদাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার উভয় চোখ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখেছে এবং আমার উভয় কান তাঁকে বলতে শুনেছে। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ ও আখিরাতের প্রতি যে লোক ঈমান রাখে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে, তাকে জা-ইযা দেয়। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, জা-ইযা কি? তিনি বলেনঃ একদিন ও একরাতের পাথেয় সাথে দেয়া। তিনি আরো বলেনঃ মেহমানদারী তিনদিন পর্যন্ত। এর অতিরিক্তটুকু সাদকারূপে গণ্য। আল্লাহ্ তা‘আলা ও আখিরাতের উপর সে লোক ঈমান রাখে যে যেন উত্তম কথা বলে, আর না হয় চুপ থাকে।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯৬৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুইটি বড় শিক্ষা এসেছে: মেহমানকে সম্মান করা এবং মুখের ভাষা ঠিক রাখা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন মেহমানকে সম্মান করে। মেহমানের জাঈযা সম্পর্কে বলা হয়েছে, একদিন ও একরাতের পাথেয়। মেহমানদারি তিন দিন পর্যন্ত, আর এর বেশি হলে তা সদকারূপে গণ্য। এরপর তিনি বলেছেন, যে আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে, না হয় চুপ থাকে। এই হাদিস আমাদের শেখায়, অতিথি আপ্যায়ন এবং সুন্দর কথা বলা মুসলিম জীবনের গুরুত্বপূর্ণ আদব। কথা যদি ভালো না হয়, চুপ থাকা নিরাপদ ও সুন্দর পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মেহমানকে সম্মান করা ঈমানি আচরণের অংশ।
- মেহমানদারির জন্য নির্দিষ্ট সময়ের নির্দেশনা এসেছে।
- ভালো কথা বলা উচিত, না পারলে চুপ থাকা ভালো।
- অতিরিক্ত আপ্যায়ন সদকারূপে গণ্য হতে পারে।
