২/৩৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২০২ - ইমামের উপস্থিতিতে ইকামতের আদব
ইমামই ইকামাত দেবার বেশি হকদার
ইকামত কখন দেওয়া হবে: ইমাম ও জামাআতের শৃঙ্খলার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২০২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২০২
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، أَخْبَرَنِي سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ، يَقُولُ كَانَ مُؤَذِّنُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يُمْهِلُ فَلاَ يُقِيمُ حَتَّى إِذَا رَأَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَدْ خَرَجَ أَقَامَ الصَّلاَةَ حِينَ يَرَاهُ .قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ هُوَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَحَدِيثُ إِسْرَائِيلَ عَنْ سِمَاكٍ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَهَكَذَا قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِنَّ الْمُؤَذِّنَ أَمْلَكُ بِالأَذَانِ وَالإِمَامَ أَمْلَكُ بِالإِقَامَةِ .
জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুয়াজ্জিন (তাঁর জন্য) প্রতীক্ষা করতে থাকতেন এবং ইক্বামাত দিতেন না। যখন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে (তাঁর ঘর হতে) বেরিয়ে আসতে দেখতেন তখনই নামাজের ইক্বামাত দিতেন।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ জাবির ইবনু সামুরার এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। এই সনদ ব্যতীত সিমাক হতে ইসরাঈলের কোন হাদীস জানা নেই। বিভিন্ন বিদ্বান এরূপই বলেছেন যে, মুয়াযযিন আযানের অধিকারী এবং ইমাম ইক্বামাতের অধিকারী (অর্থাৎ আযান মুয়াযযিনের ইচ্ছায় এবং ইমামের ইচ্ছায় ইক্বামাত দেয়া হবে)।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মুয়াজ্জিন ইকামত দিতে তাড়াহুড়া করতেন না। তিনি অপেক্ষা করতেন, আর যখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে ঘর থেকে বের হতে দেখতেন, তখনই ইকামত দিতেন। মূল শিক্ষা হলো, ইকামত নামাজ শুরু করার সরাসরি ঘোষণা। তাই এটি এমন সময় দেওয়া উচিত, যখন ইমাম নামাজে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত। বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, কিছু আলেম বলেছেন—মুয়াজ্জিন আজানের ব্যাপারে বেশি অধিকারী, আর ইমাম ইকামতের ব্যাপারে বেশি অধিকারী। সহজভাবে বললে, জামাআতের কাজ শৃঙ্খলা, অপেক্ষা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সুন্দর হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইকামত দেওয়ার আগে ইমামের প্রস্তুতি দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
- নামাজের জামাআতে তাড়াহুড়া নয়, শৃঙ্খলা দরকার।
- মুয়াজ্জিন ও ইমামের দায়িত্ব আলাদা হলেও দুজনের কাজ একে অন্যকে সহায়তা করে।
- মসজিদের কাজ সময়জ্ঞান ও ধৈর্যের সঙ্গে করা উচিত।
