২/৪০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২০৬ - সাত বছর আজানের ফজিলত
আযান দেওয়ার ফজিলত
মুয়াজ্জিনের ফজিলত: নেকীর আশায় সাত বছর আজান দেওয়ার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২০৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২০৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو تُمَيْلَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو حَمْزَةَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ «مَنْ أَذَّنَ سَبْعَ سِنِينَ مُحْتَسِبًا كُتِبَتْ لَهُ بَرَاءَةٌ مِنَ النَّارِ " .قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَثَوْبَانَ وَمُعَاوِيَةَ وَأَنَسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَأَبُو تُمَيْلَةَ اسْمُهُ يَحْيَى بْنُ وَاضِحٍ . وَأَبُو حَمْزَةَ السُّكَّرِيُّ اسْمُهُ مُحَمَّدُ بْنُ مَيْمُونٍ . وَجَابِرُ بْنُ يَزِيدَ الْجُعْفِيُّ ضَعَّفُوهُ تَرَكَهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ . قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ الْجَارُودَ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ لَوْلاَ جَابِرٌ الْجُعْفِيُّ لَكَانَ أَهْلُ الْكُوفَةِ بِغَيْرِ حَدِيثٍ وَلَوْلاَ حَمَّادٌ لَكَانَ أَهْلُ الْكُوفَةِ بِغَيْرِ فِقْهٍ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নেকীর আকাঙ্ক্ষায় একাধারে সাত বছর আজান দেবে তার জন্য জাহান্নামের আগুন হতে নাজাত নির্ধারিত আছে।
এ অনুচ্ছেদে ইবনু মাসঊদ, সাওবান, মুআবিয়া, আনাস, আবূ হুরাইরা ও আবূ সাঈদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ইবনু ‘আব্বাসের হাদীসটি গারীব। আবূ তুমাইলা এর নাম ইয়াহইয়া ইবনু ওয়াযিহ, আবূ হামযার নাম মুহাম্মাদ ইবনু মাইমূন। হাদীসের একজন রাবী জাবির ইবনু ইয়াযীদকে মুহাদ্দিসগণ হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল বলেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ ও আবদুর রহমান ইবনু মাহদী তাকে পরিত্যাগ করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, আমি জারূদের সূত্রে এবং তিনি ওয়াকীর সূত্রে শুনেছেন, যদি জাবির আল-জুফী না হত তাহলে কূফাবাসীরা (আবূ হানীফা ও তাঁর মতানুসারীগণ) হাদীসবিহীন অবস্থায় এবং যদি হাম্মাদ না হতেন তাহলে ফিক্হবিহীন অবস্থায় থাকতেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা হিসেবে এসেছে, যে ব্যক্তি নেকীর আশায় একাধারে সাত বছর আজান দেবে, তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে নাজাত লেখা হবে। এখানে মূল বিষয় হলো মুয়াজ্জিনের ফজিলত এবং ইখলাসের সঙ্গে আজান দেওয়া। আরবি অংশে ইমাম তিরমিযী হাদিসটির অবস্থা ও বর্ণনাকারীদের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাই ব্যাখ্যায় ভারসাম্য রাখা দরকার। আমরা বলতে পারি, এই বর্ণনা আজান দেওয়ার কাজকে মূল্যবান ইবাদত হিসেবে দেখায় এবং নেকীর আশা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে উৎসাহ দেয়। তবে ফজিলতকে বুঝতে হলে হাদিসের মান ও আলেমদের আলোচনা সম্পর্কেও সতর্ক থাকা ভালো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আজান দেওয়া একটি মর্যাদাপূর্ণ ধর্মীয় দায়িত্ব।
- নেকীর আশায় ধারাবাহিকভাবে ভালো কাজ করা প্রশংসনীয়।
- ইবাদতের কাজে ইখলাস বা আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত জরুরি।
- হাদিসের ফজিলত বোঝার সময় বর্ণনার মান নিয়েও সতর্ক থাকা উচিত।
