২৬/২০. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২০৬৪ - ফাতিহা রুকইয়া ও বৈধ পারিশ্রমিক

ঝাড়ফুঁকের বিনিময় গ্রহণ করা

ফাতিহা রুকইয়া: ঝাড়ফুঁক ও পারিশ্রমিকের হাদিস

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২০৬৪

حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنِي عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْمُتَوَكِّلِ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ نَاسًا، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ مَرُّوا بِحَىٍّ مِنَ الْعَرَبِ فَلَمْ يَقْرُوهُمْ وَلَمْ يُضَيِّفُوهُمْ فَاشْتَكَى سَيِّدُهُمْ فَأَتَوْنَا فَقَالُوا هَلْ عِنْدَكُمْ دَوَاءٌ قُلْنَا نَعَمْ وَلَكِنْ لَمْ تَقْرُونَا وَلَمْ تُضَيِّفُونَا فَلاَ نَفْعَلُ حَتَّى تَجْعَلُوا لَنَا جُعْلاً.فَجَعَلُوا عَلَى ذَلِكَ قَطِيعًا مِنَ الْغَنَمِ. قَالَ فَجَعَلَ رَجُلٌ مِنَّا يَقْرَأُ عَلَيْهِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَبَرَأَ فَلَمَّا أَتَيْنَا النَّبِيَّ ﷺ ذَكَرْنَا ذَلِكَ لَهُ قَالَ " وَمَا يُدْرِيكَ أَنَّهَا رُقْيَةٌ " . وَلَمْ يَذْكُرْ نَهْيًا مِنْهُ وَقَالَ " كُلُوا وَاضْرِبُوا لِي مَعَكُمْ بِسَهْمٍ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ الأَعْمَشِ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ إِيَاسٍ. وَهَكَذَا رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي وَحْشِيَّةَ عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ. وَجَعْفَرُ بْنُ إِيَاسٍ هُوَ جَعْفَرُ بْنُ أَبِي وَحْشِيَّةَ .

আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

কোন এক আরব গোত্রের অঞ্চল দিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একদল সাহাবী পথ চলছিলেন। তারা তাদেরকে অতিথিসেবা করল না। ঘটনাক্রমে তাদের বংশের প্রধান ব্যক্তিটি অসুস্থ হয়ে যায়। তারা আমাদের নিকট এসে বলে, তোমাদের নিকট কি কোন ঔষধ আছে? আমরা বললাম, হ্যাঁ আছে কিন্তু তোমরা আমাদের মেহমানদারী করনি। অতএব, যে পর্যন্ত তোমরা আমাদের জন্য পারিশ্রমিক ঠিক না করবে আমরা চিকিৎসা করব না। আমাদেরকে একপাল ছাগল প্রদান করতে তারা রাজি হলো। আমাদের মধ্যেকার একজন সূরা ফাতিহা দ্বারা তাকে ঝাড়ফুঁক করল। ফলে সে রোগমুক্ত হয়ে গেল।আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট এসে বিষয়টি তাকে খুলে বললাম। তিনি বললেনঃ তুমি কিভাবে জানতে পারলে যে, এর মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করা যায়? বর্ণনাকারী এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ হতে কোন নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ করেননি। তিনি বললেনঃ এগুলো তোমরা ভাগ কর এবং তোমাদের সাথে আমার জন্যও একটা ভাগ রাখ।

আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। এটা পূর্ববর্তী জা’ফর ইবনু ইয়াস হতে আ’মাশের রিওয়ায়াতের তুলনায় অনেক বেশি সহীহ। একাধিক বর্ণনাকারী আবূ বিশর হতে, তিনি আবূল মুতাওয়াক্কিল হতে, তিনি আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে এই সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। জাফর ইবনু ইয়াস বলেন জাফর ইবনু আবূ ওয়াহ্শিইয়্যা।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২০৬৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সূরা ফাতিহা দিয়ে ঝাড়ফুঁকের আরেকটি বর্ণনা এসেছে। সাহাবীরা এক আরব গোত্রের এলাকায় গেলে তাদের মেহমানদারি করা হয়নি। পরে ওই গোত্রের প্রধান অসুস্থ হলে তারা সাহাবীদের কাছে ওষুধ বা চিকিৎসা চায়। সাহাবীরা বলেন, আগে তোমরা আমাদের অতিথি করোনি, তাই পারিশ্রমিক নির্ধারণ না করলে আমরা চিকিৎসা করব না। পরে এক পাল ছাগল ঠিক করা হয়। একজন সাহাবী সূরা ফাতিহা পড়ে ঝাড়ফুঁক করেন এবং ব্যক্তি সুস্থ হয়। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জানানো হলে তিনি নিষেধ করেননি; বরং বলেন, এগুলো ভাগ কর এবং তাঁর জন্যও একটি অংশ রাখতে বলেন। এই হাদিসে কুরআনের মাধ্যমে রুকইয়া এবং বৈধ উপায়ে প্রতিদান নেওয়ার শিক্ষা আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সূরা ফাতিহা রুকইয়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
  • কোনো কাজের বিনিময়ে আগে থেকে পারিশ্রমিক ঠিক করা যেতে পারে।
  • সাহাবীরা সিদ্ধান্তের আগে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন