২/৪৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২০৯ - বিনিময় ছাড়া আজান দেওয়ার শিক্ষা
আযানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা মাকরুহ
আজানের বিনিময় না নেওয়া: মুয়াজ্জিনের ইখলাসের শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২০৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২০৯
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو زُبَيْدٍ، - وَهُوَ عَبْثَرُ بْنُ الْقَاسِمِ عَنْ أَشْعَثَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ، قَالَ إِنَّ مِنْ آخِرِ مَا عَهِدَ إِلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنِ اتَّخِذْ مُؤَذِّنًا لاَ يَأْخُذُ عَلَى أَذَانِهِ أَجْرًا . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عُثْمَانَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا أَنْ يَأْخُذَ الْمُؤَذِّنُ عَلَى الأَذَانِ أَجْرًا وَاسْتَحَبُّوا لِلْمُؤَذِّنِ أَنْ يَحْتَسِبَ فِي أَذَانِهِ .
‘উসমান ইবনু আবুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট হতে সর্বশেষ যে ওয়াদা নিয়েছিলেন তা ছিলঃ আমি একজন মুয়াজ্জিন রাখব যে আজানের বিনিময়ে মাহিনা নেবে না।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ উসমানের হাদীসটি হাসান সহীহ্। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আজান দিয়ে মাহিনা গ্রহণ করা মাকরূহ বলেছেন। তাঁরা এটাই পছন্দ করেছেন যে, মুয়াজ্জিন আজানের বিনিময়ে নেকীর প্রত্যাশী হবেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উসমান ইবনু আবুল আস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর কাছে শেষ দিকের যে ওয়াদা নিয়েছিলেন, তার একটি ছিল—তিনি এমন মুয়াজ্জিন রাখবেন, যে আজানের বিনিময়ে বেতন নেবে না। এখানে মূল শিক্ষা হলো আজানকে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় করা। বর্ণনার পর ইমাম তিরমিযী বলেছেন, আলেমদের আমলও ছিল এ কথার ওপর; তাঁরা আজানের বিনিময় নেওয়া অপছন্দ করতেন এবং মুয়াজ্জিনের জন্য ইখলাস পছন্দ করতেন। তবে এই হাদিস থেকে বর্তমান সব ধরনের মসজিদ ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত সিদ্ধান্ত টানা ঠিক নয়। সরাসরি শিক্ষা হলো, আজান যেন শুধু অর্থের কাজ না হয়ে নেক নিয়তের কাজ হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আজান দেওয়ার কাজে ইখলাস ও নেক নিয়ত বড় বিষয়।
- ধর্মীয় কাজকে শুধু অর্থের বিনিময়ের কাজ বানানো ঠিক নয়।
- মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পালন করা ভালো।
- হাদিসের বক্তব্য থেকে সীমার বাইরে সাধারণ সিদ্ধান্ত টানা উচিত নয়।
