২৭/২১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১১৩ - জারজ সন্তানের মীরাস
জারজ সন্তান উত্তরাধিকারী নয়।
জারজ সন্তানের মীরাস: হাদিসের সরাসরি শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২১১৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১১৩
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " أَيُّمَا رَجُلٍ عَاهَرَ بِحُرَّةٍ أَوْ أَمَةٍ فَالْوَلَدُ وَلَدُ زِنَا لاَ يَرِثُ وَلاَ يُورَثُ» .قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى غَيْرُ ابْنِ لَهِيعَةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ وَلَدَ الزِّنَا لاَ يَرِثُ مِنْ أَبِيهِ .
আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন লোক যদি কোন স্বাধীন স্ত্রীলোক অথবা দাসীর সাথে যিনায় (ব্যভিচারে) লিপ্ত হয় তাহলে (জন্মগ্রহণকারী) সন্তান ‘জারজ সন্তান’ বলে গণ্য হবে। সে কারো উত্তরাধিকারী হবে না এবং তারও কেউ উত্তরাধিকারী হবে না।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আমর ইবনু শআইবের সূত্রে ইবনু লাহীআ ছাড়াও অন্য বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করেছেন। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। ব্যভিচারজাত সন্তান তার জন্মদাতা পিতার উত্তরাধিকারী হবে না।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কোনো পুরুষ যদি স্বাধীন নারী বা দাসীর সঙ্গে যিনায় লিপ্ত হয়, তাহলে জন্ম নেওয়া সন্তান জারজ সন্তান বলে গণ্য হবে। সে কারো উত্তরাধিকারী হবে না এবং তারও কেউ উত্তরাধিকারী হবে না। মূল বিষয় হলো জারজ সন্তানের মীরাস। হাদিসটি ব্যভিচারের সামাজিক ও আইনগত প্রভাবের দিকে সতর্ক করে। তবে এখানে শিশুর ব্যক্তিগত দোষ নিয়ে কথা বলা হয়নি; বরং মীরাসের সম্পর্ক কীভাবে স্থির হবে, তা বলা হয়েছে। হাদিসের শেষে আলেমদের আমলের কথা এসেছে যে, জারজ সন্তান পিতার কাছ থেকে মীরাস পায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যিনার সম্পর্ক মীরাসের স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি করে না।
- জারজ সন্তানের পিতৃসূত্রে মীরাস না পাওয়ার কথা এসেছে।
- ব্যভিচারের ফল পরিবার ও সম্পত্তির অধিকারেও প্রভাব ফেলে।
- এ বিষয়ে ভাষা ও আচরণে সংযম রাখা দরকার।
