২৯/৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১২৭ - বংশপরিচয় ও মদিনার পবিত্রতা
যে ব্যক্তি নিজের মনিব অথবা বাবাকে পরিত্যাগ করে অন্য কাউকে নিজের মনিব অথবা বাবা বলে দাবি করে।
সঠিক বংশপরিচয় ও মদিনার সম্মান রক্ষার হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২১২৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১২৭
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَطَبَنَا عَلِيٌّ فَقَالَ مَنْ زَعَمَ أَنَّ عِنْدَنَا شَيْئًا نَقْرَؤُهُ إِلاَّ كِتَابَ اللَّهِ وَهَذِهِ الصَّحِيفَةَ صَحِيفَةٌ فِيهَا أَسْنَانُ الإِبِلِ وَأَشْيَاءُ مِنَ الْجِرَاحَاتِ فَقَدْ كَذَبَ وَقَالَ فِيهَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «الْمَدِينَةُ حَرَامٌ مَا بَيْنَ عَيْرٍ إِلَى ثَوْرٍ فَمَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا أَوْ آوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً وَمَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ أَوْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لاَ يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلاَ عَدْلٌ وَذِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ وَاحِدَةٌ يَسْعَى بِهَا أَدْنَاهُمْ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى بَعْضُهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَلِيٍّ نَحْوَهُ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عَلِيٍّ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ
ইবরাহীম আত-তাইমী (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে হতে বর্ণিতঃ
আলী (রাঃ) আমাদের সামনে খুতবা দেন এবং বলেন, যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আমাদের নিকট আল্লাহ তা‘আলার গ্রন্থ এবং এই পুস্তিকা যার মধ্যে উটের বয়সের বিবরণী ও জখমের ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে তা ব্যতীত আরো কোন গ্রন্থ আছে সে মিথ্যাবাদী। তিনি তার খুতবায় আরো বলেন, এই গ্রন্থে আরো আছেঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মাদীনার হেরেমের সীমানা হচ্ছে আইর পাহাড় হতে সাওর পর্বত পর্যন্ত। যদি কেউ এতে কোন প্রকার বিদ‘আতের প্রচলন ঘটায় অথবা কোন বিদ‘আতীকে আশ্রয় দেয় তাহলে তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ ও সকল মানুষের অভিসম্পাত। কিয়ামত দিবসে তার কোন ফরজ বা নফল ইবাদতই আল্লাহ তা‘আলা কবুল করবেন না।যে লোক তার বাবাকে পরিত্যাগ করে অন্য কাউকে বাবা বলে দাবি করে (নিজের বংশপরিচয় গোপন করে অন্য বংশের পরিচয় দেয়) অথবা তার মনিবকে ছেড়ে দিয়ে অন্য মনিবের নিকট পালিয়ে যায় তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ এবং সকল মানুষের অভিশাপ। তার ফরজ বা নফল কোন ইবাদতই গ্রহণ করা হবে না। মুসলমানদের যিম্মা প্রদান একই সমান ও অখণ্ড। তাদের মধ্যকার সবচেয়ে সাধারণ ব্যক্তি (কাউকে) আশ্রয় দান করলে তাও রক্ষা করা হবে।
আবূ ঈসা বলেন, কিছু বর্ণনাকারী আমাশ হতে, তিনি ইবরাহীম আত-তাইমী হতে, তিনি হারিস ইবনু সুওয়াইদ হতে, তিনি আলী (রাঃ)-এর হতে এই সূত্রে একইরকম বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। উপরোক্ত হাদীসটি একাধিকভাবে আলী (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত হয়েছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কয়েকটি গুরুতর বিষয় একসঙ্গে এসেছে। প্রথমত, মদিনার আইর থেকে সাওর পর্যন্ত এলাকা সম্মানিত ও হারাম সীমা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে নতুন অন্যায় কাজ চালু করা বা এমন কাজের উদ্ভাবককে আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, নিজের প্রকৃত বাবাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে বাবা বলা অথবা প্রকৃত মনিবকে ছেড়ে অন্য মনিবের পরিচয় নেওয়া নিষিদ্ধ। এতে বংশপরিচয়, পারিবারিক হক এবং সামাজিক সত্যতা রক্ষার গুরুত্ব বোঝা যায়। তৃতীয়ত, মুসলমানদের দেওয়া নিরাপত্তা ও দায় এক ও অভিন্ন; সাধারণ একজন মুসলিমের দেওয়া আশ্রয়ও সম্মান করতে হবে। হাদিসটি তাই পবিত্র স্থানের মর্যাদা, পরিচয়ের সততা এবং সামাজিক প্রতিশ্রুতি—এই তিনটি দায়িত্ব একসঙ্গে মনে করিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মদিনার পবিত্র সীমার সম্মান রক্ষা করতে হবে।
- অন্যায় নতুন প্রথা চালু করা বা তার প্রচারককে আশ্রয় দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
- নিজের প্রকৃত পিতা ও বংশপরিচয় গোপন বা বদলানো যাবে না।
- একজন মুসলিমের দেওয়া বৈধ নিরাপত্তা-প্রতিশ্রুতিও সম্মান করতে হবে।
