৩০/১. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৩৩ - তাকদীর নিয়ে তর্ক নিষিদ্ধ

তাকদীর বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক করা নিষেধ

তাকদীর নিয়ে তর্ক নয়: ঈমান রক্ষায় সংযমের শিক্ষা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১৩৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُمَحِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا صَالِحٌ الْمُرِّيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَنَحْنُ نَتَنَازَعُ فِي الْقَدَرِ فَغَضِبَ حَتَّى احْمَرَّ وَجْهُهُ حَتَّى كَأَنَّمَا فُقِئَ فِي وَجْنَتَيْهِ الرُّمَّانُ فَقَالَ «أَبِهَذَا أُمِرْتُمْ أَمْ بِهَذَا أُرْسِلْتُ إِلَيْكُمْ إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ حِينَ تَنَازَعُوا فِي هَذَا الأَمْرِ عَزَمْتُ عَلَيْكُمْ أَلاَّ تَتَنَازَعُوا فِيهِ» .قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَعَائِشَةَ وَأَنَسٍ . وَهَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ صَالِحٍ الْمُرِّيِّ . وَصَالِحٌ الْمُرِّيُّ لَهُ غَرَائِبُ يَنْفَرِدُ بِهَا لاَ يُتَابَعُ عَلَيْهَا .

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন একসময় আমাদের সামনে এসে দেখলেন যে, আমরা তাকদীর বিষয়ক তর্কে-বিতর্কে লিপ্ত হয়েছি। তিনি ভীষণ রাগান্বিত হলেন, এতে তাঁর মুখমন্ডল এমন লালবর্ণ ধারণ করল যেন তাঁর দুই গালে ডালিম নিংড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তারপর তিনি বললেনঃ তোমরা কি এজন্য আদেশপ্রাপ্ত হয়েছ, না আমি তোমাদের প্রতি এটা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি? এ বিষয়ে তোমাদের পূর্ববর্তী জনগণেরা যখনই বাক-বিতন্ডা করেছে তখনই তারা ধ্বংস হয়েছে। আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞার সাথে তোমাদেরকে বলছিঃ তোমরা এ বিষয়ে কখনো যেন বিতর্কে লিপ্ত না হও।

আবূ ঈসা বলেন, উমর, আইশা ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ বিষয়ে সালিহ আল-মুররীর বর্ণনা ব্যতীত আর কিছু জানি না। তার আরো কিছু গারীব পর্যায়ভুক্ত একক বর্ণনা আছে।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৩৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সাহাবিদের একটি দল তাকদীর নিয়ে তর্ক করছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা দেখে খুব রাগান্বিত হন এবং প্রশ্ন করেন, তারা কি এমন বিতর্কের জন্য আদেশপ্রাপ্ত হয়েছে, নাকি তিনি এ কাজ শেখাতে প্রেরিত হয়েছেন। এরপর তিনি জানান, আগের লোকেরা এ ধরনের বিষয়ে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই তিনি দৃঢ়ভাবে নিষেধ করেন, যেন তারা তাকদীর নিয়ে বিবাদে না জড়ায়। হাদিসটি তাকদীরে ঈমানের আলোচনা বন্ধ করতে বলে না; বরং এমন তর্ক থেকে বিরত থাকতে বলে, যা সত্য জানার বদলে বিরোধ, অহংকার ও বিভ্রান্তি বাড়ায়। একজন মুসলিমের উচিত সীমিত জ্ঞান স্বীকার করা, প্রমাণভিত্তিক কথা বলা এবং অকারণ বাকযুদ্ধ এড়ানো। বিশ্বাসের বিষয়কে জয়ের প্রতিযোগিতা বানানো এই শিক্ষার সঙ্গে যায় না।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • তাকদীর নিয়ে ঝগড়া ও বাকযুদ্ধ থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • ধর্মীয় আলোচনার উদ্দেশ্য সত্য বোঝা, প্রতিপক্ষকে হারানো নয়।
  • মানুষের জ্ঞানের সীমা আছে—এ কথা বিনয়ের সঙ্গে মানতে হবে।
  • পূর্ববর্তী লোকদের ক্ষতির কারণ হওয়া বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন